
আগরতলা, ১৫ মে : আশা কর্মীদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ আন্তরিক। তাই দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনের কোনও প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। শুক্রবার হাঁপানিয়ায় আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত রাজ্যভিত্তিক আশা কনভেনশনে তিনি এই আশ্বাস দেন।
প্রায় নয় বছর পর এই প্রথম রাজ্যের আশা কর্মীদের নিয়ে রাজ্যস্তরের কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্যে, আয়ুষ্মান ভারত যোজনার রাজ্য মিশন অধিকর্তা জেএস নায়েক, স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ দেবশ্রী দেববর্মা, পরিবার কল্যাণ দফতরের অধিকর্তা ডাঃ অঞ্জন দাস, মেডিকেল এডুকেশন অধিকর্তা প্রফেসর (ডাঃ) এইচপি শর্মা সহ স্বাস্থ্য দফতরের অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকরা।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার ডেলিভারি সিস্টেমে আশা কর্মীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তাঁদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনি জানান, রাজ্যভিত্তিক টিকাকরণ কর্মসূচির সাফল্যের হার ৯৬.৯৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যার পেছনে আশা কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম রয়েছে। একইভাবে ‘মুখ্যমন্ত্রীর সুস্থ শৈশব ও সুস্থ কৈশোর’ (মাসকা) প্রকল্পের শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও আশা কর্মীরাই মূল ভূমিকা পালন করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য দফতর বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্র। এই পরিষেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আশা কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধনের কাজ করছেন। তিনি বলেন, “আপনারা যে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন, তার জন্য সাধারণ মানুষ আপনাদের ভালোবাসেন ও শ্রদ্ধা করেন।”
আশা কর্মীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মাঝে মাঝে আশা কর্মীদের রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে দেখা যায়। কিন্তু তার কোনও প্রয়োজন নেই। আগের সরকার সমস্যার সৃষ্টি করে ক্ষমতায় থাকত, আর বর্তমান সরকার সমস্যার সমাধান করে ক্ষমতায় থাকতে চায়।” তিনি আরও জানান, দিল্লি সফর কিংবা রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক— সর্বত্রই আশা কর্মীদের আর্থিক ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
কনভেনশনে বিভিন্ন জেলা ও মহকুমার একাধিক আশা কর্মীকে তাঁদের অসামান্য কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কৃত করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য অতিথিরা তাঁদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।
রাজ্যজুড়ে হাজার হাজার আশা কর্মীর উপস্থিতিতে কনভেনশনটি নারী ক্ষমতায়নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। এ উপলক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী সকল আশা কর্মীকে অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতেও জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে একই নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ