
জয়পুর, ১৯ মে (হি.স.) : রাজস্থান দ্রুত দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রিটিক্যাল মিনারেলস কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় খনি ও কয়লা মন্ত্রী জি. কিষাণ রেড্ডি। তিনি বলেন, দেশে খনন ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার হয়েছে এবং সেই পরিবর্তনের ফলে রাজস্থান এই খাতে দ্রুত এগিয়ে চলেছে।
মঙ্গলবার জয়পুরে মুখ্যমন্ত্রী নিবাসে খনি ও কয়লা বিভাগের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র সরকারের দূরদর্শী নীতি এবং ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’-এর ফলে ক্রিটিক্যাল মিনারেলসের অনুসন্ধান, নিলাম ও উৎপাদন প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত হয়েছে। প্রতিরক্ষা, শক্তি, কৃষি, সৌরশক্তি এবং অটোমোবাইল শিল্পে এই খনিজের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে এবং রাজস্থান সেই চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে সক্ষম।
তিনি আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা-র সক্রিয় ও উদ্যোগী ভূমিকার কারণে রাজ্যের খনন খাত দ্রুত উন্নতির পথে এগোচ্ছে। খনিজ সম্পদের বৈজ্ঞানিক ব্যবহার, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং স্বচ্ছ নীতির ফলে রাজস্থান দেশের অন্যতম প্রধান খনন কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়লে খনন সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে এবং বিনিয়োগ ও উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে সিওয়ানা রিং কমপ্লেক্স নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। জানানো হয়, সিওয়ানা ও বালোটরা জেলাজুড়ে বিস্তৃত এই অঞ্চলে রেয়ার আর্থ এলিমেন্ট এবং হেভি রেয়ার আর্থ এলিমেন্টের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, যা আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিচ্ছন্ন শক্তি খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা বলেন, খনিজ সম্পদের দিক থেকে রাজস্থান দেশের অন্যতম শীর্ষ রাজ্য। রাজ্যে মোট ৮২ ধরনের খনিজ পাওয়া যায়, যার মধ্যে বর্তমানে ৫৭টির উত্তোলন চলছে। তিনি জানান, রাজ্য সরকার খনন খাতে স্বচ্ছতা, নীতিগত সংস্কার এবং পরিকাঠামো উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী আধিকারিকদের নির্দেশ দেন, কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খনন প্রকল্পগুলি সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি ভারতীয় ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (জিএসআই)-কে চিহ্নিত খনিজ এলাকার তথ্য রাজ্য সরকারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অনুরোধ জানান, যাতে ওই এলাকাগুলির সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়। নিলাম হওয়া খনিজ ব্লকে দ্রুত পরিবেশগত ছাড়পত্র দিয়ে উৎপাদন শুরু করার ওপরও তিনি জোর দেন।
বৈঠকে শক্তি খাত, সৌরশক্তি প্রকল্প, ডিএমএফ তহবিল, পরিবেশ ও বন সংক্রান্ত ছাড়পত্র এবং বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক অনুসন্ধান কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়। উপস্থিত ছিলেন মুখ্য সচিব ভি. শ্রীনিবাস, অতিরিক্ত মুখ্য সচিব অপর্ণা অরোরা-সহ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক।
হিন্দুস্থান সমাচার / সুনন্দা দাস