ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে চরম অব্যবস্থার অভিযোগ
ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ১৯ মে (হি.স.) : উত্তর ত্রিপুরার অন্যতম প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে চরম অব্যবস্থা, নিরাপত্তাহীনতা এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার অভিযোগ সামনে এসেছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগ (ওপিডি) চত্বরে ব্যবহৃত গর্ভনিরোধক সামগ্রী, মাদক
ধর্মনগর জেলা হাসপাতাল


ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ১৯ মে (হি.স.) : উত্তর ত্রিপুরার অন্যতম প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে চরম অব্যবস্থা, নিরাপত্তাহীনতা এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার অভিযোগ সামনে এসেছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগ (ওপিডি) চত্বরে ব্যবহৃত গর্ভনিরোধক সামগ্রী, মাদক সেবনের সিরিঞ্জ, বিদেশি মদের খালি বোতলসহ বিভিন্ন আপত্তিকর ও নোংরা সামগ্রী পড়ে থাকতে দেখা যাওয়ায় রোগী ও তাঁদের পরিজনদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের যে অংশে প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসার জন্য আসেন, সেই এলাকায় এ ধরনের সামগ্রী পড়ে থাকা শুধু হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেনি, বরং নিরাপত্তা ব্যবস্থারও চরম দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। হাসপাতাল চত্বরে এই ধরনের সামগ্রী উদ্ধার হওয়ায় রোগী, শিশু এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতালের জনৈক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিষয়টি নতুন নয়। তাঁর দাবি, গত কিছুদিন ধরে সন্ধ্যার পর হাসপাতাল চত্বরে অসামাজিক কার্যকলাপ বেড়ে চলেছে। মদ্যপান, নেশা এবং অন্যান্য বেআইনি কর্মকাণ্ড নিয়মিতভাবে ঘটছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। নিরাপত্তারক্ষীদের উপস্থিতি থাকলেও কার্যকর নজরদারির অভাবে অসামাজিক চক্রগুলি নির্বিঘ্নে হাসপাতাল এলাকাকে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী, গর্ভবতী মহিলা, শিশু ও প্রবীণ মানুষ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল জায়গায় অসামাজিক কার্যকলাপ চলতে দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার জানান, হাসপাতাল চত্বরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলছে বলে তাঁর জানা ছিল না। বিষয়টি নজরে আসার পর তিনি অবিলম্বে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং দোষীদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি হাসপাতালের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার কথাও জানান তিনি।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ধর্মনগরের বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, যেখানে মানুষ জীবন বাঁচানোর আশায় ছুটে যান, সেই হাসপাতাল কীভাবে অসামাজিক কার্যকলাপের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হল? প্রশাসনের নজরদারির অভাব এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য আজ ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।

সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে হাসপাতাল চত্বরে নিয়মিত পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, সিসিটিভি নজরদারি এবং নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি উঠেছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande