
গুয়াহাটি, ২ মে (হি.স.) : রেলওয়ে সুরক্ষা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণের লক্ষ্যে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে 'প্লাগ-অ্যান্ড-প্লে' ফ্লিট-ওয়াইড অনবোর্ড ভাইব্রেশন আইএমইউ-জিপিএস ইভেন্ট ক্যামেরা সিস্টেম উদ্ভাবন ও চালু করার উদ্দেশ্যে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) গুয়াহাটির সাথে এক মউ স্বাক্ষর করেছে।
এই ব্যবস্থাটিকে একটি 'প্লাগ-অ্যান্ড-প্লে' অন-বোর্ড সমাধান হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে। এর ফলে লোকোমোটিভ ও কোচে কোনও বড় ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই সর্বত্রে সহজে স্থাপন করা যায়। এভাবে ফ্লিট-ওয়াইড এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়। এই সিস্টেমটি ট্র্যাকের অবস্থা অবিরাম ও অত্যন্ত নির্ভুলতার সাথে পর্যবেক্ষণ করার জন্য জিপিএস প্রযুক্তির পাশাপাশি উন্নত ইনার্শিয়াল মেজারমেন্ট ইউনিট (আইএমইউ) সেন্সর ব্যবহার করে।
আজ শনিবার উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা এক প্রেস বার্তায় এ তথ্য দিয়ে জানান, এই সিস্টেমে ট্র্যাকের অস্বাভাবিকতাগুলি রিয়েল-টাইমে শনাক্ত ও বিশ্লেষণ করার লক্ষ্যে ইভেন্ট-ভিত্তিক ক্যামেরা প্রযুক্তিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি সমগ্র রেল নেটওয়ার্কে ট্র্যাকের ত্রুটিগুলির ধারাবাহিক ম্যাপিং সম্ভবপর করে তুলবে এবং রিয়েল-টাইম সতর্কতা জারি করবে। এর ফলে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকিগুলোর প্রতি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।
তিনি জানান, এই সহযোগিতার উদ্দেশ্য হলো একটি পরিমাপযোগ্য ও সাশ্রয়ী সমাধান উদ্ভাবনের লক্ষ্যে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি গুয়াহাটির গবেষণালব্ধ দক্ষতাকে কাজে লাগানো। এটি ভবিষ্যদ্বাণীমূলক ও অবস্থা-ভিত্তিক রক্ষণাবেক্ষণকে সহজতর করবে। এর ফলে ম্যানুয়াল পরিদর্শনের ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে এবং ত্রুটি বা বিকল হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
এই পদক্ষেপ পরিচালনগত দক্ষতা, নির্ভরযোগ্যতা এবং যাত্রীদের সুরক্ষা উন্নত করার পাশাপাশি এটি তথ্য-নির্ভর ও প্রযুক্তি-সমর্থিত পরিকাঠামো ব্যবস্থাপনার বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গিকে সহায়তা প্রদান করবে। এই প্রকল্পটি ভারতীয় রেলওয়ে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে শক্তিশালী সহযোগিতার মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশেও সহায়তা করে।
কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানান, এই অংশীদারিত্ব উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে দ্বারা রেলওয়ে পরিকাঠামোকে আধুনিকীকরণ ও উদ্ভাবন এবং রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সুরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস