
কলকাতা, ২ মে (হি. স.): দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে শনিবার নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ডায়মন্ড হারবার এবং মগরাহাট পশ্চিমের ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচন চললেও, ফলতাকে সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার স্থানীয়দের বিক্ষোভের জেরে গোটা এলাকা অশান্ত হয়ে উঠলে নির্বাচন কমিশন স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে।
গ্রামবাসীদের একটি অংশের অভিযোগ, বিজেপিকে ভোট দেওয়ার অপরাধে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের হুমকি দিচ্ছে। এই ঘটনায় তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের নামও জড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, তাঁর ঘনিষ্ঠ পঞ্চায়েত প্রধান ইসরাফিল সরদারের নেতৃত্বে এই হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এর প্রতিবাদে গ্রামবাসীরা ১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভকারীদের দাবি, অবিলম্বে ইসরাফিল সরদারকে গ্রেফতার করতে হবে এবং ফলতায় পুনর্নির্বাচন করাতে হবে। কেউ কেউ জাহাঙ্গীর খানেরও গ্রেফতারির দাবি তুলেছেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার থেকেই এলাকার পরিস্থিতি থমথমে ছিল। হাসিননগরে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনার পর থেকেই উত্তেজনা বাড়ছিল। বিজেপি সমর্থকদের দাবি, তাঁদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিবাদ করলে হামলা চালানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ফলতা থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীও এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার নতুন করে উত্তেজনা ছড়ালে বিক্ষোভকারীরা রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠলেও পুলিশ আধিকারিকরা তা অস্বীকার করেছেন।
দ্বিতীয় দফার ভোটের পর থেকেই ফলতার একাধিক বুথে ইভিএম গোলযোগের অভিযোগ উঠেছিল। বিরোধী দলগুলো ৩২টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছিল। সূত্রের খবর, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নির্দেশে বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কমিশনকে একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছেন, যেখানে প্রায় ৩০টি বুথে পুনর্নির্বাচনের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। বর্তমানে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারিতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি