
ঝাড়গ্রাম, ২৬ মে (হি.স.) : জঙ্গলমহলের পর্যটনকে নতুনভাবে সাজিয়ে তুলতে বেলপাহাড়ি ও জামবনি এলাকায় একাধিক উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জঙ্গল সাফারি, বোটিং, রোপওয়ে সহ পর্যটন কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন বিনপুর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক প্রণত টুডু।
পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ানো এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বেলপাহাড়ি দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গলমহলের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। পাহাড়, জঙ্গল, নদী ও ঝর্ণায় ঘেরা এই এলাকা সারা বছরই পর্যটকদের টানে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন সংগঠনের অভিযোগ, যাতায়াতের রাস্তা, পানীয় জল, শৌচাগার ও বসার জায়গার মতো মৌলিক পরিকাঠামোর ঘাটতি দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। এবার সেই সমস্যাগুলির সমাধানের পাশাপাশি ভুলাভেদা, বাঁশপাহাড়ি, চাকাডোব সহ বিস্তীর্ণ জঙ্গল এলাকায় জঙ্গল সাফারি চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বিধায়ক প্রণত টুডু বেলপাহাড়ি বিডিওর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং খাঁদারানীসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকা পরিদর্শন করেন। তাঁর মতে, জঙ্গল সাফারি চালু হলে পর্যটনের আকর্ষণ আরও বাড়বে।
মঙ্গলবার বেলপাহাড়ি ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র বিধান দেবনাথ বলেন, “জঙ্গল সাফারি চালু হলে পর্যটকদের আগ্রহ বাড়বে। পাশাপাশি পানীয় জল ও শৌচাগারের ব্যবস্থা উন্নত হলে বিশেষ করে মহিলা পর্যটকদের সুবিধা হবে।”
অন্যদিকে, চিল্কীগড়ের কনকদুর্গা মন্দিরকে ঘিরেও নতুন পর্যটন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মন্দির সংলগ্ন ‘বুড়ি ডুলুং’ খাল সংস্কারের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করেছে ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কাজ শেষ হলে করোনা পর্বে বন্ধ হয়ে যাওয়া বোটিং পরিষেবা পুনরায় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পে ৩১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
এছাড়াও ডুলুং নদী ও জঙ্গলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের জন্য রোপওয়ে চালুর বিষয়েও ভাবনা চলছে। বিধায়কের দাবি, রোপওয়ে চালু হলে চিল্কীগড়ের পর্যটন আরও জনপ্রিয় হবে এবং স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
জামবনি ব্লকের লালবাঁধ এলাকাকেও পর্যটন মানচিত্রে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেখানে বাঁধ সংস্কার করে বোটিং পরিষেবা চালুর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিধায়ক প্রণত টুডু বলেন, “বেলপাহাড়ি ও জামবনি ব্লকের পর্যটন উন্নয়নের জন্য প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। চিল্কীগড়ে রোপওয়ে চালুর বিষয়েও আলোচনা চলছে এবং রাস্তার অবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো