নজরুল জন্মজয়ন্তীতে আগরতলায় অনুষ্ঠান, মানবতা ও সাম্যের বার্তা উচ্চারিত
আগরতলা, ২৬ মে (হি.স.) : ভারতীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতির আকাশে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক—এমনই মত উঠে এল তাঁর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রভাতী কবি প্রণাম অনুষ্ঠানে। আগরতলায় নজরুল কলাক্ষেত্রে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথ
আগরতলায় নজরুল জয়ন্তী


আগরতলা, ২৬ মে (হি.স.) : ভারতীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতির আকাশে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক—এমনই মত উঠে এল তাঁর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রভাতী কবি প্রণাম অনুষ্ঠানে। আগরতলায় নজরুল কলাক্ষেত্রে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মন।

তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু কবি নন, তিনি ছিলেন চেতনা, জাগরণ ও বিপ্লবের প্রতীক। তাঁর লেখনীতে যেমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে বজ্রকণ্ঠ ধ্বনিত হয়েছে, তেমনি প্রেম, মানবতা ও সম্প্রীতির সুরও গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, সমাজে প্রচলিত অন্যায়, কুসংস্কার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে নজরুলের অবস্থান আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। ছাত্র-যুব সমাজকে তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে হবে, তবেই একটি শক্তিশালী ও উন্নত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও নজরুল মানবতার গান রচনা করে গেছেন, যা আজও মানুষের মনকে অনুপ্রাণিত করে। তাঁর সৃষ্ট দেশপ্রেমমূলক গান ও কবিতা জাতির চেতনায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য পদ্মশ্রী ডঃ অরুণোদয় সাহা। তিনি বলেন, বাংলা সাহিত্যের জাগরণে নজরুল ইসলামের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি শুধু বিদ্রোহের কবি নন, গজল ও শ্যামাসংগীতসহ বিভিন্ন ধারায় তাঁর সৃজনশীলতা আজও শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।

তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য স্বাগত ভাষণে বলেন, নজরুল তাঁর লেখনীর মাধ্যমে মানবতার জয়গান গেয়েছেন এবং তাঁর কবিতা ও গান প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে আজও সমানভাবে শক্তিশালী। তিনি জানান, কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে রাজ্যের বিভিন্ন মহকুমাতেও একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে আগরতলা পুর নিগমের কাউন্সিলর সুখময় সাহা ও হিমানি দেব্বর্মা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা কবি কাজী নজরুল ইসলামের আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পরবর্তীতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংস্থার শিল্পীরা মনোজ্ঞ পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। নজরুলের গান, কবিতা ও আবৃত্তিতে পুরো অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে আবেগঘন ও সাংস্কৃতিক আবহে সমৃদ্ধ।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande