
কুমারঘাট (ত্রিপুরা), ২৬ মে (হি.স.) : ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট পুর পরিষদ এলাকার বেহাল জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা ঘিরে চরম দুর্ভোগের শিকার সাধারণ মানুষ। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়ছে, আর সেই জল সরাসরি ঢুকে যাচ্ছে মানুষের বাড়িঘরে। এমনই দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দিন কাটাচ্ছেন কুমারঘাট পুর পরিষদের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের রতিয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা পার্থ বিজয় দেবের পরিবার।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টি শুরু হতেই জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এলাকার সমস্ত জল তাঁদের বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে। এলাকায় উপযুক্ত নর্দমা বা জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দিনের পর দিন ঘরের ভেতর জল জমে থাকছে। ফলে জলের মধ্যেই রান্নাবান্না, পুজো, পড়াশোনা থেকে শুরু করে সমস্ত দৈনন্দিন কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের গৃহবধূ বাবলি দেব জানান, গত এক মাস ধরে তাঁরা চরম জল যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছেন। প্রতিদিন সকালবেলা বিছানা থেকে নামতেই পা পড়ছে নোংরা জলে। দিনের বেলায় বৈদ্যুতিক পাম্প চালিয়ে জল বের করলেও সন্ধ্যা বা রাতের বৃষ্টিতে আবারও ঘর ভর্তি হয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, পরিবারের শিশুদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “রাস্তায় কোনও ড্রেন নেই। জাতীয় সড়কের জল থেকে শুরু করে আশপাশের সমস্ত জল এসে আমাদের বাড়িতে ঢুকছে। বহুবার পুর পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
পরিবারটির দাবি, বছরের পর বছর ধরে তাঁরা একই সমস্যার সম্মুখীন হলেও প্রশাসনের তরফে কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। চলতি বছরে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘক্ষণ নোংরা জলে বসবাসের ফলে পরিবারের ছোট শিশু থেকে বয়স্ক সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ।
অন্যদিকে, ঘরের ভেতরে দীর্ঘদিন জল জমে থাকার কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক সামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। অথচ নিয়মিত পুর কর দেওয়ার পরও নাগরিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, কুমারঘাট পুর পরিষদ এলাকায় উন্নয়নের নানা দাবি করা হলেও বাস্তবে জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট ও নাগরিক পরিষেবার বেহাল চিত্রই সামনে উঠে আসছে। বিশেষ করে বর্ষা এলেই বিভিন্ন ওয়ার্ডে জল জমার সমস্যা প্রকট হয়ে উঠছে।
এদিকে দ্রুত এলাকায় স্থায়ী জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার দাবি উঠেছে স্থানীয় মহলে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ