ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ঘেরাটোপে আগামীকাল ৪ মে অসম বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা, প্রস্তুত কমিশন
গুয়াহাটি, ৩ মে (হি.স.) : ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ঘেরাটোপে আগামীকাল ৪ মে সোমবার সকাল থেকে ষোড়শ অসম বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা শুরু হতে চলেছে। গোটা রাজ্যের দৃষ্টি এখন আগামীকালের ফলাফলের দিকে নিবদ্ধ। এই ফলাফলেই নির্ধারিত হবে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি
গুয়াহাটির ভোটগণনা কেন্দ্র (ফাইল ফটো)


গুয়াহাটি, ৩ মে (হি.স.) : ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ঘেরাটোপে আগামীকাল ৪ মে সোমবার সকাল থেকে ষোড়শ অসম বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা শুরু হতে চলেছে। গোটা রাজ্যের দৃষ্টি এখন আগামীকালের ফলাফলের দিকে নিবদ্ধ। এই ফলাফলেই নির্ধারিত হবে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় ফিরতে পারবে? নাকি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস আবার প্রত্যাবর্তন ঘটাবে।

রাজ্যের ৩৫টি জেলার ৪০টি গণনা কেন্দ্রে মোট ১২৬টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গণনা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে সম্পন্ন হবে। ৭২২ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণকারী ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে স্ট্রংরুম থেকে গণনা কেন্দ্রে আনা হবে।

রাজ্য নির্বাচনী আধিকারিক অনুরাগ গোয়েলের কাছে জানা গেছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা এবং ফলাফল ঘোষণার প্রস্তুতি চূড়ান্ত হয়ে গেছে। সকাল ৮টা থেকে পোস্টাল ব্যালট গণনা শুরু হবে। এর পর সকাল ৮:৩০টা থেকে শুরু হবে ইভিএম গণনা। প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে ১৪টি নির্দিষ্ট টেবিলে গণনা চলবে। উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ ভোট গণনার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন গণনাকেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, গণনা কেন্দ্র এবং স্ট্রংরুমগুলির নিরাপত্তার জন্য সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স (সিএপিএফ)-এর ২৫টি কোম্পানি মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত রাজ্য পুলিশ ও বিশেষ নিরাপত্তা দলও দায়িত্বে থাকবে যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গণনা সম্পন্ন হয়।

প্রসঙ্গত, গত ৯ এপ্রিল অসমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২ কোটি ৪৯ লক্ষ ৫৮ হাজার ১৩৯ জন ভোটারের মধ্যে ৮৫.৯৬ শতাংশ ভোটদান হয়। এবারের নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যে জোরদার প্রচারাভিযান চালিয়েছিল। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ছয়টি দলের জোট শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

৭২২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫৯ জন মহিলা প্রার্থী রয়েছেন। সর্বাধিক ৯৯ জন প্রার্থী দিয়েছে কংগ্রেস। এরপর রয়েছে বিজেপি, ৯০ জন প্রার্থী। অন্যান্য প্রধান দলগুলির মধ্যে রয়েছে অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ), অসম গণ পরিষদ (অগপ), বডোল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট (বিপিএফ), রাইজর দল এবং অসম জাতীয় পরিষদ। এছাড়া রয়েছেন বেশ কয়েকজন নির্দলীয় প্রার্থী।

এবারের নির্বাচনে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা, অসম প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ, বিরোধী দলনেতা দেবব্রত শইকিয়া, এআইইউডিএফ-প্রধান বদরউদ্দিন আজমল, রাইজর দলের সভাপতি অখিল গগৈ, অসম জাতীয় পরিষদ-এর সভাপতি লুরিনজ্যোতি গগৈ প্রমুখ।

এবারের নির্বাচনে ২৫৮ জন নির্দলীয় প্রার্থী ছাড়া দলভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা যথাক্রমে -

এনডিএ-ভুক্ত ভারতীয় জনতা পার্টি ৯০টি আসনে, অসম গণ পরিষদ (অগপ) ২৬টি আসনে ও বডোল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট (বিপিএফ) ১১টি আসনে; কংগ্রেস ৯৯টি আসনে; আম আদমি পার্টি ১৮টি আসনে; সিপিআই(এম) ২-টি আসনে; এআইইউডিএফ ৩০টি আসনে; ইউপিপিএল ১৮টি আসনে; অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লক ২-টি আসনে; তৃণমূল কংগ্ৰেস ২২টি আসনে; অপনি জনতা পার্টি ২-টি আসনে; অসম জাতীয় পরিষদ ১০টি আসনে; ভারতীয় গণ পরিষদ ৪-টি আসনে; সিপিআই ৩-টি আসনে; সিপিআই (এমএল) ৩-টি আসনে; গণ সুরক্ষা পার্টি ১০টি আসনে; গোন্ডওয়ানা গণতন্ত্র পার্টি ৩-টি আসনে; ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা ১৬টি আসনে; ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) ২-টি আসনে, রাইজর দল ১৩টি আসনে, রাষ্ট্রীয় উলেমা কাউন্সিল ১০টি আসনে; রিপাবলিকান পার্টি অব ইন্ডিয়া (আঠাওয়ালে) ৪-টি আসনে; রেভলিউশনারি কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (রসিক ভট্ট) ১-টি আসনে; সোশালিস্ট ইউনিটি সেন্টার অব ইন্ডিয়া (কমিউনিস্ট) ৪১টি আসনে; দ্য ন্যাশনাল রোড ম্যাপ পার্টি অব ইন্ডিয়া ২-টি আসনে; বিকাশ ইন্ডিয়া পার্টি ৫-টি আসনে এবং ভোটার্স পার্টি ইন্টারন্যাশনাল ১৭টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande