‘উড়ন্ত আলু’ থেকে রহস্যময় আলোকবলয়, নতুন মার্কিন নথিতে ফের ইউএফও বিতর্ক
ওয়াশিংটন, ১৩ জুন (হি.স.) : আকাশে ভাসছে আলুর মতো দেখতে এক অদ্ভুত বস্তু। কিছুক্ষণ স্থির থাকার পর আচমকাই মিলিয়ে যাচ্ছে। কোথাও আবার কমলা রঙের উজ্জ্বল আলোকবলয় থেকে বেরিয়ে আসছে ছোট ছোট লাল গোলক। এমনই একের পর এক রহস্যময় ঘটনার বিবরণ উঠে এসেছে মার্কিন সরকার
‘উড়ন্ত আলু’ থেকে রহস্যময় আলোকবলয়, নতুন মার্কিন নথিতে ফের ইউএফও বিতর্ক


ওয়াশিংটন, ১৩ জুন (হি.স.) : আকাশে ভাসছে আলুর মতো দেখতে এক অদ্ভুত বস্তু। কিছুক্ষণ স্থির থাকার পর আচমকাই মিলিয়ে যাচ্ছে। কোথাও আবার কমলা রঙের উজ্জ্বল আলোকবলয় থেকে বেরিয়ে আসছে ছোট ছোট লাল গোলক। এমনই একের পর এক রহস্যময় ঘটনার বিবরণ উঠে এসেছে মার্কিন সরকারের সদ্য প্রকাশিত ইউএফও-সংক্রান্ত নথিতে।

তবে বহু বছরের জল্পনা-কল্পনার পরও ভিনগ্রহের প্রাণের অস্তিত্ব বা পৃথিবীর বাইরে থেকে আসা মহাকাশযানের কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনও মেলেনি। বরং নতুন নথিগুলি দেখাচ্ছে, রহস্য যতটা রোমাঞ্চকর, তার ব্যাখ্যা ততটাই অধরা।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে চলা স্বচ্ছতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার আরও ৭২টি নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রশাসন। এর আগে প্রায় ৩০০টি সরকারি নথি জনসমক্ষে আনা হয়েছিল। ১৯৪০-এর দশক থেকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত বিভিন্ন অস্বাভাবিক আকাশ পর্যবেক্ষণের ঘটনা এই নথিগুলিতে স্থান পেয়েছে। বর্তমানে মার্কিন প্রশাসন এগুলিকে ‘আনআইডেন্টিফায়েড অ্যানোম্যালাস ফেনোমেনা’ (ইউএপি) নামে উল্লেখ করছে।

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলির একটি ২০২২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি কলোরাডো স্প্রিংসের কাছে। ফোর্ট কারসনে কর্মরত পাঁচ মার্কিন সেনা সদস্য চেয়েন মাউন্টেন সংলগ্ন আকাশে একটি অদ্ভুত বস্তুকে ভাসতে দেখেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় সেটির আকৃতি ছিল অনেকটা আলুর মতো। ফ্যাকাশে, ঝলমলে ওই বস্তুটির গায়ে মাছের আঁশের মতো অনিয়মিত নকশা দেখা গিয়েছিল বলে দাবি। প্রায় দু’মিনিট স্থির থাকার পর সেটি হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায়। বিভিন্ন সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হলেও তদন্তকারীরা এখনও কোনও নিশ্চিত ব্যাখ্যা খুঁজে পাননি।

২০২৩ সালের অক্টোবরে আরেকটি ঘটনায় ছয় জন ফেডারেল আইনপ্রয়োগকারী আধিকারিক একটি পাহাড়ি এলাকার উপরে উজ্জ্বল কমলা ও লাল রঙের আলোকবলয় দেখতে পান। তাঁদের দাবি, বড় কমলা রঙের আলোর ভেতর থেকে ছোট লাল গোলক বেরিয়ে আসছিল এবং কিছুক্ষণ পর সেগুলি মিলিয়ে যাচ্ছিল। একটি বস্তু কয়েক ঘণ্টা স্থির অবস্থায় ছিল বলেও রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। সামরিক মহড়া, ফ্লেয়ার বা পরীক্ষামূলক প্রযুক্তির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি তদন্তকারীরা।

সাম্প্রতিকতম ঘটনাগুলির একটি ঘটেছে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। উত্তর-পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক বাসিন্দা বাড়ি ফেরার পথে গাছের মাথার নীচে একটি উজ্জ্বল লাল গোলক ভাসতে দেখেন। তাঁর দাবি, গোলকের ভিতরে সাদা আলোর কেন্দ্র ছিল, যা অনেকটা প্লাজমার মতো দেখাচ্ছিল। পরে আরও একটি গোলক দেখা যায় এবং দু’টি বস্তুই নিঃশব্দে দূরে সরে যায়। মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও বিশ্লেষণ করেও তদন্তকারীরা বস্তুগুলির উৎস নির্ধারণ করতে পারেননি।

প্রকাশিত নথির মধ্যে রয়েছে ২০০৮ সালের জিম্বাবোয়ের একটি গোয়েন্দা রিপোর্টও। রাজধানীর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একাধিক ব্যক্তি একটি চাকতির মতো উড়ন্ত বস্তু দেখার দাবি করেছিলেন। মাঝখানে ফাঁপা অংশ এবং নীচে ঘূর্ণায়মান আলোযুক্ত ওই বস্তু থেকে বিভিন্ন রঙের আলোকরশ্মি বেরোতে দেখা গিয়েছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি দ্রুত উপরের দিকে উঠে অদৃশ্য হয়ে যায়।

এই সমস্ত ঘটনার তদন্ত করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের ‘অল-ডোমেন অ্যানোম্যালি রেজোলিউশন অফিস’ (এ এ আর ও )। কংগ্রেসের উদ্যোগে ২০২২ সালে গঠিত এই সংস্থা শত শত ঘটনার তদন্ত করলেও এখনও পর্যন্ত কোনও ঘটনাকে ভিনগ্রহের প্রাণ বা মহাকাশযানের সঙ্গে যুক্ত করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পায়নি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বেলুন, ড্রোন, আবহাওয়াজনিত ঘটনা বা সামরিক কার্যকলাপকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে কিছু ঘটনা এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে তথ্যের অভাবে।

নতুন নথিগুলি রহস্যময় আকাশ পর্যবেক্ষণ নিয়ে জনসাধারণের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিলেও একটি প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরাই— পৃথিবীর বাইরে আদৌ কি বুদ্ধিমান প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে? আপাতত মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য, সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো প্রমাণ এখনও তাদের হাতে নেই।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande