
আগরতলা, ১৪ জুন (হি.স.) : তপশিলি জাতি, তপশিলি উপজাতি, ওবিসি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় ত্রিপুরাজুড়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে ভীম আর্মী ভারত একতা মিশন। পাশাপাশি রাজ্যের যে কোনও প্রান্তে সাধারণ মানুষ অন্যায়, অবিচার বা বৈষম্যের শিকার হলে সংগঠন তাঁদের পাশে দাঁড়াবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও সামাজিক সহায়তা প্রদান করবে বলে জানানো হয়েছে।
রবিবার আগরতলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন ভীম আর্মী ভারত একতা মিশনের ত্রিপুরা রাজ্য শাখার সভাপতি সুনীল কুমার দাস। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের রাজ্য সচিব রাজু পাল, টিটিএএডিসি এলাকার সভাপতি বাবুল চন্দ্র জমাতিয়া-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সুনীল কুমার দাস বলেন, ভীম আর্মী ভারত একতা মিশন কোনও রাজনৈতিক জোট বা দলের অনুসারী নয়। সংগঠনটি এনডিএ কিংবা ইন্ডি জোট—কোনও পক্ষের সমর্থক নয়। তাদের মূল লক্ষ্য হলো দেশের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং বঞ্চিত, নিপীড়িত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করা।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মতো ত্রিপুরাতেও বহু ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ নিজেদের সাংবিধানিক ও আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতন নন। সেই কারণে ভীম আর্মী ভারত একতা মিশন গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত সচেতনতামূলক কর্মসূচি, আলোচনা সভা এবং সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তপশিলি জাতি, উপজাতি, ওবিসি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সংরক্ষণ-সংক্রান্ত অধিকার যথাযথভাবে ভোগ করতে পারেন, সে বিষয়ে সংগঠন কাজ করবে বলে তিনি জানান।
সাংবাদিক সম্মেলনে সম্প্রতি আলোচিত শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। সুনীল কুমার দাস বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এর সঙ্গে জড়িত সমস্ত তথ্য নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জনসমক্ষে প্রকাশ করা প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, প্রকৃত সত্য উদঘাটনের স্বার্থে প্রশাসনকে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনও ব্যক্তি বা পরিবারের সঙ্গে অন্যায় হলে ভীম আর্মী ভারত একতা মিশন তাঁদের পাশে দাঁড়াবে। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সংবিধানের মূল চেতনা রক্ষার লক্ষ্যে সংগঠন ভবিষ্যতেও বিভিন্ন গণমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করবে।
সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনের নেতারা ত্রিপুরার বিভিন্ন অংশে সাংগঠনিক বিস্তারের পাশাপাশি অধিকারভিত্তিক আন্দোলনকে আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ