
আগরতলা, ১৪ জুন (হি.স.) : ত্রিপুরা বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে সংবিধান বাঁচাও মঞ্চের জয় রাজ্যের মানুষের প্রকৃত মনোভাবের প্রতিফলন বলে দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর মতে, এই ফলাফল স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বিজেপি-র রাজনীতি পছন্দ করেন না এবং বর্তমান শাসকদলের প্রতি ক্রমশ অনাস্থা বাড়ছে।
রবিবার ত্রিপুরা বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা বলেন, এই জয় শুধুমাত্র একটি পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচন নয়, বরং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক আদর্শের প্রতি আইনজীবী সমাজের আস্থার বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, এই ফলাফল অত্যন্ত ইতিবাচক এবং তাৎপর্যপূর্ণ। এতে রাজ্যের মানুষের রাজনৈতিক মনোভাবের একটি স্পষ্ট বার্তা রয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রিপুরা বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে বিজেপি সমর্থিত আইনজীবী উন্নয়ন মঞ্চকে পরাজিত করে সভাপতি ও সম্পাদক পদসহ মোট ১৫টির মধ্যে ১০টি পদে জয়লাভ করেছে সংবিধান বাঁচাও মঞ্চ। কংগ্রেস ও সিপিআই(এম) সমর্থিত আইনজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত এই মঞ্চ ২০১৮ সালের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আসছে এবং এবারের জয়ের মাধ্যমে টানা চতুর্থবারের মতো বার অ্যাসোসিয়েশনের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
ফলাফলকে কেন্দ্র করে জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও গণমঞ্চকে নিজেদের প্রভাববলয়ে আনতে বিজেপি নানা ধরনের চেষ্টা চালালেও সংবিধান বাঁচাও মঞ্চের ওপর তাঁরা প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। আইনজীবীদের এই রায় গণতন্ত্র, সংবিধান ও স্বাধীন মতপ্রকাশের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, রাজ্যের মানুষ বিজেপি-র শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিরক্ত। বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনের ফল সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। আইনজীবী সমাজ স্বাধীনভাবে তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার প্রতিফলন ঘটেছে।
এদিন বিরোধী দলনেতা সংবিধান বাঁচাও মঞ্চের সকল সদস্য, কর্মী-সমর্থক এবং নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্ব আইনজীবীদের স্বার্থরক্ষা, পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ত্রিপুরা বার অ্যাসোসিয়েশনের এই নির্বাচনী ফলাফল আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ ও বিরোধী ঐক্যের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। যদিও এটি একটি পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচন, তবুও এর ফলাফল রাজ্যের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিসরে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ