(আপডেট) নন্দীগ্রাম থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী করলেন জনকল্যাণ শিবিরের সূচনা, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার আশ্বাস
কলকাতা, ১৫ জুন (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলির সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে রাজ্যব্যাপী তিন দিনব্যাপী জনকল্যাণ শিবিরের সূচনা হল সোমবার। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রেয়াপাড়া থেকে এই কর্মসূচ
শুভেন্দু অধিকারী


কলকাতা, ১৫ জুন (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলির সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে রাজ্যব্যাপী তিন দিনব্যাপী জনকল্যাণ শিবিরের সূচনা হল সোমবার। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রেয়াপাড়া থেকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি সরকারি প্রকল্প, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৫, ১৬ এবং ১৭ জুন রাজ্যজুড়ে প্রায় ১১০০টি স্থানে এই জনকল্যাণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। এই শিবিরগুলির মাধ্যমে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ৫৪টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের পরিষেবা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র আওতায় উপভোক্তাদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। সোমবার সকাল পর্যন্ত ৭৯ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সহায়তা রাশি পাঠানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, আগামী দিনে সমস্ত যোগ্য উপভোক্তার কাছে এই প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।

কর্মসংস্থানের বিষয়ে বড় বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, সুপারিশ বা উত্তরপত্রে কারচুপির মতো কোনও ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। পরীক্ষার্থীদের ওএমআর শিটের কার্বন কপি বাড়ি নিয়ে যাওয়ার সুবিধা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ইন্টারভিউ বা মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের গুরুত্ব হ্রাস করা এবং মূল্যায়নে শিক্ষাগত যোগ্যতার নম্বর যুক্ত করার কথাও বলেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, নিয়ম অনুযায়ী তফসিলি জাতি (এসসি), তফসিলি উপজাতি (এসটি), অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি), দিব্যাঙ্গ এবং অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর (ইডব্লুএস) শ্রেণির জন্য সংরক্ষণ সুনিশ্চিত করা হবে।

তিনি জানান, এই জনকল্যাণ শিবিরগুলিতে অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত যোজনা, সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা, বেটি বাঁচাও-বেটি পড়াও, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড, জমির পাট্টার আবেদন, ল্যান্ড রেকর্ড সংশোধন, মিউটেশন, নাগরিকত্বের আবেদন, কৃষি পরিকাঠামো তহবিল এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের মতো পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করা হবে। যোগ্য ব্যক্তিরা এই সমস্ত প্রকল্পে নাম নথিভুক্তও করতে পারবেন।

স্বাস্থ্য ক্ষেত্র প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান মন্দির’ স্থাপন করা হচ্ছে এবং আগামী জুলাই মাস থেকে মানুষকে আয়ুষ্মান ভারত কার্ডও প্রদান করা হবে। এর মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলি ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন।

পূর্বতন সরকারের নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী দুর্নীতি এবং প্রকল্পের সুবিধা বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, আগে বহু অযোগ্য মানুষকে সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বর্তমান সরকার এটা সুনিশ্চিত করতে চায় যেন সরকারি অর্থ কেবল প্রকৃত ও যোগ্য উপভোক্তাদের কাছেই পৌঁছায়।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা থেকে বঞ্চিতরা এবার এই শিবিরের মাধ্যমে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। সমীক্ষার পরেও যদি কেউ নিজেকে বঞ্চিত মনে করেন, তবে তিনি সরকারের টোল-ফ্রি নম্বরে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

নন্দীগ্রামের উন্নয়নের উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এলাকায় রেল পরিষেবা চালু করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নন্দীগ্রামের মানুষ রেল যোগাযোগের সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি হলদিয়া-নন্দীগ্রাম সেতু প্রকল্পকেও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা এবং সুশাসনের মাধ্যমে রাজ্যের উন্নয়নকে নতুন গতি দেওয়া হবে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে এই জনকল্যাণ শিবিরের সর্বাধিক সুবিধা নেওয়ার এবং সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, তীব্র রোদ-গরম উপেক্ষা করেই এদিন থেকে শুরু হওয়া ‘জনকল্যাণ শিবিরে’ ভিড় জমিয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। সরকারের কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ। সরকারি প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করতে সকাল থেকেই জেলায় জেলায় বিভিন্ন শিবিরে উপচে পড়া ভিড়।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande