
কৈলাসহর (ত্রিপুরা), ১৫ জুন (হি.স.) : ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন ঊনকোটি জেলার চণ্ডীপুর বিধানসভা এলাকার সমরুরমুখ অঞ্চলের একটি গভীর জঙ্গল থেকে বিপুল পরিমাণ বার্মিজ সিগারেট উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সিগারেটের পরিমাণ এবং এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল ৪টা নাগাদ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কৈলাসহর থানার পুলিশ ও টিএসআর জওয়ানদের একটি যৌথ দল সমরুরমুখ এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে সীমান্ত সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত জঙ্গল থেকে ২৫ বস্তা বার্মিজ সিগারেট উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ উদ্ধারকৃত সিগারেটের বাজারমূল্য প্রায় ১০ লক্ষ টাকা বলে অনুমান করলেও স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রকৃত মূল্য ১২ লক্ষ টাকার কাছাকাছি হতে পারে।
উদ্ধার হওয়া সামগ্রী সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ কৈলাসহর থানায় নিয়ে আসা হয়। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। ফলে কারা এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য সীমান্ত এলাকায় মজুত করেছিল এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ঘটনার পর থেকেই এলাকাবাসীর মধ্যে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। স্থানীয়দের মতে, সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় চোরাকারবারি চক্র দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের অবৈধ পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত। তাঁদের অভিযোগ, এত বড় পরিমাণ সিগারেট কোনও সংগঠিত নেটওয়ার্কের সহযোগিতা ছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় পৌঁছানো বা মজুত করা সম্ভব নয়।
এদিকে বিভিন্ন মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে উদ্ধার হওয়া সিগারেট একটি কুখ্যাত পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে পুলিশ এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নাম প্রকাশ করেনি। তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাকে ঘিরে আরও একটি অভিযোগ সামনে এসেছে। কয়েকটি সূত্রের দাবি, উদ্ধার হওয়া মালামাল ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য প্রভাব খাটানোর চেষ্টা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের কোনও সরকারি সত্যতা এখনও মেলেনি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারির একাধিক স্তর থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এত বড় পরিমাণ অবৈধ বার্মিজ সিগারেট সেখানে পৌঁছল। চিনিবাগান পুলিশ নাকা পয়েন্ট অতিক্রম করে কিংবা সীমান্তের বিভিন্ন নজরদারি ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে এই চালান কীভাবে জঙ্গলে মজুত করা হল, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। নাকা পয়েন্ট, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধুমাত্র সিগারেট উদ্ধার করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। এর সঙ্গে জড়িত মূল হোতা, অর্থের জোগানদাতা, পরিবহনকারী এবং পাচারচক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ চোরাচালান বন্ধ করা সম্ভব হবে না।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সিগারেটের উৎস, মালিকানা এবং সম্ভাব্য পাচারচক্রের সঙ্গে যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ