২৪ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের জাতীয় সড়ক ও রেল অবরোধের হুঁশিয়ারি আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের
আগরতলা, ১৭ জুন (হি.স.) : দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে পুনর্বাসনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পরও সরকারিভাবে কোনও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় এবার অনির্দিষ্টকালের জন্য জাতীয় সড়ক ও রেল অবরোধ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের দুই সংগঠন—জয়েন্ট অ্য
সাংবাদিক সম্মেলন


আগরতলা, ১৭ জুন (হি.স.) : দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে পুনর্বাসনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পরও সরকারিভাবে কোনও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় এবার অনির্দিষ্টকালের জন্য জাতীয় সড়ক ও রেল অবরোধ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের দুই সংগঠন—জয়েন্ট অ্যাকশন রিহ্যাবিলিটেশন কমিটি (জেএআরসি) এবং জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি (জেএসি)। বুধবার আগরতলায় কুঞ্জবনস্থিত রূপশ্রী উপজাতি রেস্ট হাউসে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন রাজ্য সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বহু জঙ্গি অস্ত্র সমর্পণ করে মূলস্রোতের জীবনে ফিরে এসেছিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দেওয়া হলেও দীর্ঘ তিন দশক অতিক্রান্ত হওয়ার পরও কোনও পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন প্যাকেজ কার্যকর করা হয়নি। ফলে আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের পরিবারগুলির অধিকাংশই বর্তমানে চরম আর্থিক ও সামাজিক অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন।

জেএআরসি ও জেএসির অভিযোগ, পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান, আবাসনসহ বিভিন্ন মৌলিক দাবির বিষয়ে সরকার ও প্রশাসনের উদাসীনতা তাঁদের আজকের এই অবস্থার জন্য দায়ী। সম্প্রতি সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাঁদের ৯ দফা দাবি নিয়ে জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার কাছে ডেপুটেশন জমা দেন। সেই সময় সাত দিনের মধ্যে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্যও সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও সরকার কিংবা সংশ্লিষ্ট দফতরের পক্ষ থেকে কোনও ইতিবাচক উদ্যোগ বা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে দাবি সংগঠনের।

এই পরিস্থিতিতে আগামী ২৪ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, দাবি পূরণের ব্যাপারে সরকার সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না দিলে আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকার ধারণ করতে পারে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরু থেকেই পুনর্বাসনের দাবিতে একাধিক সংগঠন আন্দোলনের পথে নেমেছে। গত ৫ জুন ত্রিপুরা গেরিলা রিটারনিজ ডিমান্ড কমিটি (টিজিআরডিসি) জাতীয় সড়ক ও রেল অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। পরে জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার সঙ্গে বৈঠকের পর সংগঠনটি আন্দোলন স্থগিত রাখে। একইভাবে ১২ জুন আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের আরেকটি সংগঠনও অনুরূপ কর্মসূচির ঘোষণা দিলে মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তারা আপাতত আন্দোলন থেকে সরে আসে।

এবার জেএআরসি ও জেএসি-র আন্দোলনের ঘোষণায় পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। আগামী ২৪ জুনের আগে সরকার তাঁদের দাবির বিষয়ে কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করে কিনা, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের। আন্দোলন বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande