ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন
কলকাতা, ১৯ জুন (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নিয়োগকে কেন্দ্র করে জারি থাকা আইনি লড়াই এবার কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বা খণ্ডপীঠে পৌঁছেছে। সিঙ্গল বেঞ্চ বা একক বিচারপতির আদেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল দায়ের করেছেন তৃণ
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়


কলকাতা, ১৯ জুন (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নিয়োগকে কেন্দ্র করে জারি থাকা আইনি লড়াই এবার কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বা খণ্ডপীঠে পৌঁছেছে। সিঙ্গল বেঞ্চ বা একক বিচারপতির আদেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল দায়ের করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। শুক্রবার বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে বিচারপতি কৃষ্ণ রাও-এর সিঙ্গল বেঞ্চ বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুর সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছিল। আদালত অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশের আর্জি খারিজ করে জানিয়েছিল যে, আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিরোধী দলনেতা পদে বহাল থাকবেন। একই সঙ্গে সমস্ত পক্ষকে হলফনামা এবং পাল্টা হলফনামা দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সিঙ্গল বেঞ্চে এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৮ জুলাই নির্ধারিত রয়েছে।

উল্লেখ্য, বিধানসভার অধ্যক্ষ তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন। অধ্যক্ষের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর যুক্তি, বিধানসভার অধ্যক্ষ নির্ধারিত নিয়মকানুন মেনে চলেননি। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের অধিকার সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের থাকে, কোনো সংসদীয় গোষ্ঠী বা অসন্তুষ্ট বিধায়কদের হাতে এই ক্ষমতা থাকতে পারে না।

এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় তখন, যখন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা পদের জন্য শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করেন। এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয় এবং অভিষেকের বিরুদ্ধে বিধায়কদের সই জাল করার অভিযোগও ওঠে।

বিধানসভার অধ্যক্ষ শেষ পর্যন্ত অভিষেকের সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। এর পরিবর্তে তিনি বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহার প্রস্তাব বিবেচনা করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিযুক্ত করেন। অধ্যক্ষের হিসাব অনুযায়ী, সন্দীপন গোষ্ঠীর পক্ষে ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়কের সমর্থন ছিল এবং তাঁদের মধ্যে ৫৬ জন বিধায়ক ব্যক্তিগতভাবে স্পিকারের সামনে হাজির হয়ে নিজেদের সমর্থন নথিভুক্ত করিয়েছিলেন। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর ভিত্তি করেই ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত করা হয়।

অধ্যক্ষের পক্ষে আদালতে আরও জানানো হয়েছে যে, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো স্পষ্ট বিধিবদ্ধ বা আইনি নিয়ম নেই। পশ্চিমবঙ্গে এতদিন ধরে ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করেই বিরোধী দলের প্রস্তাব গ্রহণ করা হতো। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের অন্দরেই দুটি আলাদা গোষ্ঠী তৈরি হয়ে যাওয়ায়, সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের মতামতকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের অধিকার কেবল মূল রাজনৈতিক দলেরই রয়েছে; দল ভাঙা কোনো গোষ্ঠী বা সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়করা এই বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। এবার এই অত্যন্ত সংবেদনশীল রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্কে ডিভিশন বেঞ্চের শুনানির পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে আসবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande