
উদয়পুর (ত্রিপুরা), ১৯ জুন (হি.স.) : ২০২১ সালে গোমতী জেলার উদয়পুরের ভগিনী নিবেদিতা বিদ্যালয়ের জনৈক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া বহুল আলোচিত মামলায় অবশেষে রায় ঘোষণা করল উদয়পুর জেলা দায়রা আদালত। আদালত অভিযুক্ত শিক্ষক অধীর চন্দ্র দাসকে দোষী সাব্যস্ত করে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া, সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা এবং আইনগত সমস্ত দিক বিবেচনা করে আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করেছে।
জানা যায়, ২০২১ সালে বিদ্যালয়ের জনৈক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে শিক্ষক অধীর চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই গোটা রাজ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ এবং নারী ও শিশু সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরবর্তীতে নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন তদন্তকারী অফিসার রিপিতা ভট্টাচার্যী। তদন্ত চলাকালীন নির্যাতিতার জবানবন্দি, চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি, সাক্ষীদের বক্তব্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তকারী দলের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মামলাটি বিচারপর্বে পৌঁছায়।
দীর্ঘদিন ধরে চলা বিচার প্রক্রিয়ায় একাধিক সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণ উপস্থাপনের পর আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালতের রায় অনুযায়ী, অধীর চন্দ্র দাসকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। পাশাপাশি আইনের নির্ধারিত অন্যান্য বিধানও প্রযোজ্য হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
রায় ঘোষণার পর নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ন্যায়বিচার মিলেছে। অন্যদিকে মামলার সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীরাও জানান, আদালত সমস্ত তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষ্য গভীরভাবে পর্যালোচনা করেই এই রায় দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই রায় সমাজে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো সংবেদনশীল স্থানে ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেও মনে করছেন অনেকে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত হলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা হ্রাস পাবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। উদয়পুর জেলা দায়রা আদালতের এই রায় সেই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ