
মোহনপুর (ত্রিপুরা), ২ জুন (হি.স.) : পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার আগরতলা-সিমনা সড়কের ব্রহ্মকুণ্ড শিববাড়ি সংলগ্ন পাকা ব্রিজের এপ্রোচ ওয়াল এবং রাস্তার নিচের মাটি ধসে পড়ায় এলাকায় চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও পূর্ত দফতর ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে যেকোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বর্ষণের জেরে ব্রিজের সিমনা অভিমুখী অংশের বাঁদিকের এপ্রোচ ওয়াল ভেঙে পাশের ছড়ায় বিলীন হয়ে গেছে। উপরিভাগে রাস্তা স্বাভাবিক মনে হলেও পিচঢালা রাস্তার নিচের বিশাল অংশের মাটি ধসে পড়েছে। এর ফলে ব্রিজে ওঠানামার সময় যানবাহন বিশেষ করে ভারী যানবাহনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত প্রায় ছয় মাস ধরে ব্রহ্মকুণ্ড পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। নির্মাণকাজের জন্য বিপুল পরিমাণ মাটি ও পাথর বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখায় স্বাভাবিক জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে বৃষ্টির জল নির্দিষ্ট পথে বের হতে না পেরে ব্রিজের পাশ দিয়ে প্রবল স্রোতে নেমে আসে। এর ফলেই এপ্রোচ ওয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রাস্তার নিচের মাটি ধসে যায় এবং বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়।
বর্তমানে ব্রিজের বাঁদিক ঘেঁষে কোনও যানবাহন চলাচল করলে রাস্তার অংশ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় অটোচালক, পথচারী ও সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন, প্রতিদিন শত শত যানবাহন এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। তাই দ্রুত সংস্কার না করা হলে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি ব্রিজের আশপাশে সতর্কীকরণ বোর্ড, ব্যারিকেড ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে সোমবার গভীর রাত থেকে ব্রিজের এই বিপজ্জনক অবস্থা সৃষ্টি হলেও মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রশাসন বা পূর্ত দফতরের কোনও প্রতিনিধি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ব্রিজ এতটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছে গেলেও প্রশাসনের নীরবতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বর্ষার বাকি সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে এবং যেকোনও মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ