
চেন্নাই, ২১ জুন (হি.স.) : তামিলনাড়ুর তিরুভাল্লুর জেলার পেরিয়াপালায়মের কাছে একটি চিংড়ি প্রক্রিয়াকরণ (শ্রিম্প প্রসেসিং) কারখানায় অ্যামোনিয়া গ্যাস লিকের ঘটনায় সাত মহিলা-সহ মোট ১০ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বহু শ্রমিক। তাঁদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃতদের পরিবারকে দু'লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে তামিলনাড়ু সরকার।
রবিবার সকালে কারখানায় কাজ চলাকালীন আচমকাই অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসকষ্ট শুরু হয় শ্রমিকদের। ঘটনাস্থলেই সাত মহিলা শ্রমিকের মৃত্যু হয়। অসুস্থ হয়ে পড়েন ৪৫ জনেরও বেশি কর্মী। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জেলা শাসক জানান, ৪৬ জনকে ভেলস হাসপাতালে এবং ২১ জনকে ভেঙ্কটেশ্বরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ নয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চেন্নাইয়ের সরকারি স্ট্যানলি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। কয়েকজনের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণের ঘটনাও ঘটেছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার শোকপ্রকাশ করেছেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আরাক্কোনমে অবস্থিত এনডিআরএফ একটি ৩০ সদস্যের বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। গ্যাস শনাক্তকারী যন্ত্র, সুরক্ষা সরঞ্জাম ও বিশেষ উদ্ধার সামগ্রী নিয়ে তারা উদ্ধার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কাজে নেমেছে। এলাকায় এখনও উদ্ধার অভিযান চলছে।
এদিকে হাসপাতালে ভর্তি শ্রমিকদের দেখতে গিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী কুমার। তিনি আহতদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য