
উজ্জ্বয়িনী, ২২ জুন (হি.স.): মধ্যপ্রদেশের উজ্জ্বয়িনীর বিশ্বখ্যাত মহাকালেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দিরে ভস্ম আরতির দর্শন ঘিরে সোমবার থেকে কার্যকর হল নতুন বুকিং ব্যবস্থা। এবার থেকে একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে তিন মাসে মাত্র একবারই ভস্ম আরতির অনুমতি মিলবে। সাধারণ ভক্তদের পাশাপাশি প্রোটোকল ব্যবস্থার বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই একই ব্যক্তি একাধিকবার বুকিং করে ভস্ম আরতির সুযোগ পাচ্ছিলেন। ফলে বহু সাধারণ ভক্ত অনলাইনে আবেদন করেও অনুমতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই নতুন ব্যবস্থাকে আরও কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়েছে। একবার বুকিং সম্পন্ন হলে একই মোবাইল নম্বর দিয়ে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে আর আবেদন করা যাবে না।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে তৎকালীন জেলা শাসক নীরজ সিং ভস্ম আরতির বুকিংয়ে অনিয়মের অভিযোগের জেরে এক আধার ও এক মোবাইল নম্বর থেকে তিন মাসে একবার বুকিংয়ের নিয়ম চালু করেছিলেন। পরে সেই ব্যবস্থা কার্যত শিথিল হয়ে যায়। সম্প্রতি ফের অভিযোগ বাড়তে থাকায় নিয়মটি নতুন করে কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
মহাকাল মন্দিরের প্রশাসক প্রথম কৌশিক জানান, উদ্দেশ্য একটাই—যাতে আরও বেশি সাধারণ ভক্ত সমানভাবে ভস্ম আরতির দর্শনের সুযোগ পান এবং বুকিং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
এদিন ভোরে মন্দিরের দরজা খোলার পর বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে মহাকালের জলাভিষেক ও পঞ্চামৃত স্নান সম্পন্ন হয়। এরপর ভস্ম নিবেদন, চন্দন, ভাঙ, ত্রিপুণ্ড, রুদ্রাক্ষের মালা, রুপোর মুকুট ও বিভিন্ন সুগন্ধি ফুল দিয়ে বিশেষ রাজবেশে শৃঙ্গার করা হয়। মোগরা ও গোলাপের ফুলে সজ্জিত মহাকালের দিব্য রূপ দর্শন করেন হাজার হাজার ভক্ত। মহানির্বাণী আখড়ার পক্ষ থেকেও ভগবানকে ভস্ম অর্পণ করা হয়।
এদিকে, রাজস্থানের জয়পুরের সান সিটি নিদড় এলাকার বাসিন্দা ভাগচাঁদ বলেসরা মহাকালেশ্বরকে ১ কেজি ৩০০ গ্রাম রুপো দিয়ে তৈরি একটি সুদৃশ্য ছত্র অর্পণ করেন। তাঁর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে প্রায় ৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের ওই ছত্র বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে মহাকালের শিরোভূষণ হিসেবে নিবেদন করা হয়। পরে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে ভক্তকে সংবর্ধনাও জানানো হয়।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য