
দুর্গাপুর, ২২ জুন (হি.স.) : শিল্প করিডরের পর এবার আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের জন্য আরও একাধিক বড় ঘোষণা করল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। সোমবার বিধানসভায় প্রথম বাজেট পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত দুর্গাপুরে একটি সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট স্থাপন এবং আসানসোল-দুর্গাপুরের মধ্যে মেট্রো পরিষেবার সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখতে টেকনো-ইকোনমিক স্টাডি করার কথা ঘোষণা করেন। এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে শিল্পাঞ্চল জুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা মিষ্টিমুখ করে আনন্দ উদ্যাপন করেন।
দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের দুরবস্থা, বন্ধ কারখানা ও কর্মসংস্থানের সংকটে জর্জরিত দুর্গাপুর-আসানসোল শিল্পাঞ্চল নতুন করে শিল্পোন্নয়নের আশায় ছিল। শিল্প করিডরের ঘোষণার পর এবার সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও মেট্রো প্রকল্পের সম্ভাবনা সেই আশাকে আরও জোরালো করল বলে মনে করছেন শিল্পমহলের একাংশ।
বাজেট ভাষণে অর্থমন্ত্রী জানান, দুর্গাপুর, আসানসোল, অণ্ডাল, পানাগড় ও সংলগ্ন শিল্পাঞ্চলে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো, দক্ষ মানবসম্পদ এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় শিল্প বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পের বিকাশ ঘটাতে দুর্গাপুরে একটি সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি আসানসোল-দুর্গাপুর এবং শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ির মধ্যে মেট্রো পরিষেবা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে টেকনো-ইকোনমিক স্টাডি করা হবে।
সেমিকন্ডাক্টর হল আধুনিক ইলেকট্রনিক্স শিল্পের অন্যতম ভিত্তি। মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, গাড়ি, চিকিৎসা সরঞ্জাম থেকে মহাকাশ গবেষণা—প্রায় সব ক্ষেত্রেই সেমিকন্ডাক্টর চিপ অপরিহার্য। কেন্দ্র সরকারের ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন-এর আওতায় দেশজুড়ে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ চলছে। গুজরাট, উত্তর প্রদেশ, অসম, ওড়িশা ও রাজস্থানের পাশাপাশি এবার দুর্গাপুরকেও এই সম্ভাব্য শিল্প মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট স্থাপিত হলে বিপুল বিনিয়োগ, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান এবং আনুষঙ্গিক শিল্পের বিকাশ ঘটবে। একই সঙ্গে দুর্গাপুর পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে নয়াদিল্লির যশোভূমি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৫-এর উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ওই সম্মেলনেই ভারতের প্রথম দেশীয় ৩২-বিট প্রসেসর ‘বিক্রম’ উন্মোচিত হয়। সেখানে এনআইটি দুর্গাপুরের গবেষক দল তৈরি করা একটি চিপ ডিজাইনও প্রদর্শিত হয়েছিল।
দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণচন্দ্র ঘড়ুই বলেন, ডিটিপিএসের আধুনিকীকরণ, গ্যাস পাইপলাইন, ডিএসপি-র আধুনিকীকরণ এবং সার কারখানার পুনরুজ্জীবনের পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট শিল্পাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে। শিল্প করিডর ও নতুন শিল্প প্রকল্পের ফলে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আসানসোল ও দুর্গাপুরকে মেট্রো পরিষেবার মাধ্যমে যুক্ত করার উদ্যোগ শিল্পাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায় সূচনা করবে। পাশাপাশি নতুন মেডিক্যাল কলেজ ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক প্রকল্প শিল্পাঞ্চলের সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘোষিত প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে দুর্গাপুর-আসানসোল শিল্পাঞ্চল আগামী দিনে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপ্রযুক্তি ও উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা