
হুগলি , ২২ জুন (হি.স.): দেবত্ব সম্পত্তি এবং শিব মন্দিরে তালা দেওয়াকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়াল হুগলির গোঘাট-১ নম্বর ব্লকের কুরমনা গ্রামে। সোমবার সকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কুরমনার একটি পুকুরপাড় সংলগ্ন প্রাচীন শিব মন্দিরকে ঘিরে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই শিব মন্দিরটি ‘শান্তিনাথ শিব’ নামে পরিচিত এবং বহু বছর ধরে এলাকাবাসীর ধর্মীয় আস্থার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ, মন্দিরের সেবায়েত প্রতিদিনের মতো সকালে পাঠ শেষ করে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর কয়েকজন ব্যক্তি মন্দিরে তালা লাগিয়ে দেন। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্রুত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সূত্রের খবর গোঘাট গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা সিদ্ধেশ্বর পাখিরা শিব মন্দিরের মীমাংস করতে গিয়েছিলেন । যদিও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, “আমি শ্বশুরবাড়ি থেকে ফিরছিলাম। আমাকে বারবার ফোন করা হয়। ফেরার পথে লোকজন আমাকে দাঁড় করিয়ে কিছু কাগজপত্র দেখায়। আমি শুধু বলেছি, বিষয়টি প্রশাসনের। প্রশাসনই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।”
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এই দেবত্ব সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আইনি জটিলতা চলছে। বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন এবং হাইকোর্ট পর্যন্ত মামলা গড়িয়েছে। এরই মধ্যে সোমবার গোঘাট-১ ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার (বিএল অ্যান্ড এলআরও) দফতরের আধিকারিকদের সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শনে আসার কথা ছিল। তার আগেই মন্দিরে তালা দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় গোঘাট থানার পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। উভয় পক্ষকেই থানায় গিয়ে নিজেদের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, নিজেদের প্রকৃত সম্পত্তির মালিক দাবি করে এক পক্ষের বক্তব্য, “দেবত্ব সম্পত্তিটি সাঁতরা পরিবার জবরদখল করে রেখেছে। আমরা স্থানীয় কয়েকজনের নামে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছি। তাঁরাই মন্দিরের দেখাশোনা করেন এবং প্রতিবছর গাজনের আয়োজন করেন। আমরা কেবল পুকুরটির দখল নিয়েছি।”
দেবত্ব সম্পত্তি, ধর্মীয় অনুভূতি এবং দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধ—এই তিনের সংঘাতে কুরমনার পরিস্থিতি আপাতত থমথমে। প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে এলাকাবাসী।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA