রাশিয়া পর্যন্ত পৌঁছেছে পরিচিতি, জরুরি অবস্থার দমনপীড়ন সহ্য করেও থামেনি হিন্দুস্থান সমাচার: অরবিন্দ মার্ডিকর
পাটনা, ২৪ জুন (হিস): হিন্দুস্থান সমাচারের চেয়ারম্যান অরবিন্দ ভালচন্দ্র মার্ডিকর বুধবার বলেন, ভারতীয় ভাষার সাংবাদিকতায় নিবেদিত হিন্দুস্থান সমাচার আজ দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে নিজের পরিচয় সুদৃঢ় করছে। অরবিন্দ মার্ডিকর পাটনার মিঠাপুর
অরবিন্দ মার্ডিকর


পাটনা, ২৪ জুন (হিস): হিন্দুস্থান সমাচারের চেয়ারম্যান অরবিন্দ ভালচন্দ্র মার্ডিকর বুধবার বলেন, ভারতীয় ভাষার সাংবাদিকতায় নিবেদিত হিন্দুস্থান সমাচার আজ দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে নিজের পরিচয় সুদৃঢ় করছে।

অরবিন্দ মার্ডিকর পাটনার মিঠাপুর ইনস্টিটিউশনাল এরিয়ায় হিন্দুস্থান সমাচার আয়োজিত জরুরি অবস্থার ৫০ বছর : বিহার আন্দোলন এবং জরুরি অবস্থা বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। তিনি জানান যে রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা 'স্পুটনিক'-এর সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সংবাদ ও তথ্যের আদান-প্রদান হচ্ছে। আগামী দিনে অন্যান্য দেশের প্রধান সংবাদ সংস্থাগুলোর সঙ্গেও এই সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে হিন্দুস্থান সমাচার ১৫টি ভারতীয় ভাষায় সংবাদ পরিষেবা প্রদান করছে এবং সারা দেশের বহু সংবাদপত্র, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং প্রসার ভারতী এর পরিষেবা ব্যবহার করছে।

এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন অরবিন্দ মার্ডিকর। তিনি বলেন, ১৯৪৮ সালে দাদাসাহেব আপটে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে তাঁদের মাতৃভাষায় সঠিক এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে হিন্দুস্থান সমাচার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। স্বাতন্ত্র্যবীর বিনায়ক দামোদর সাভারকরের অনুরোধে মুম্বই থেকে এটি শুরু হয় এবং পরবর্তীতে এটিকে সমবায় প্রতিষ্ঠানের রূপ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, বহুভাষী সাংবাদিকতার যে ধারণার ওপর ভিত্তি করে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল, আজও এই প্রতিষ্ঠান সেই মূল ভাবধারা নিয়েই কাজ করে চলেছে।

তিনি বলেন যে হিন্দুস্থান সমাচার সর্বদা সত্য এবং তথ্যকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। ১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধের সময়ও এই সংস্থা প্রকৃত পরিস্থিতি জনগণের সামনে তুলে ধরেছিল। ভারতীয় ভাষায় সংবাদ সম্প্রচারকে গতিশীল করতে 'দেবনাগরী টেলিপ্রিন্টার'-এর মতো ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

মার্ডিকর বলেন, ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময় এই সংস্থার ওপর ব্যাপক সরকারি চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এটিকে দুর্বল করার এবং বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও সংগ্রামের মধ্যে ১৯৮৩ সালে এর পরিচালনা স্থগিত করতে হয়েছিল, কিন্তু প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব শেষ হয়ে যায়নি।

তিনি জানান, দিল্লি হাইকোর্টে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ১৯৯৮ সালে আসা রায় হিন্দুস্থান সমাচারার নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। ২০০০ সালে এটি পুনরুজ্জীবিত হয়। পরবর্তী বছরগুলিতে এই প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত বিস্তার লাভ করে। ২০১৬ সালে আর. কে. সিনহার নেতৃত্বকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সময় তাঁর প্রচেষ্টায় সংস্থাটি নতুন উদ্যম পায় এবং এর অস্তিত্ব সুরক্ষিত হয়।

মার্ডিকর বলেন, হিন্দুস্থান সমাচার এখন প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। সংবাদদাতাদের জন্য মোবাইল অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে এবং সম্পূর্ণ নিউজ প্রসেসিং সিস্টেমটি ক্লাউড-ভিত্তিক। এআই, ভাষিণী এবং ফ্যাক্ট-চেকিং প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপরও কাজ করা হচ্ছে। তিনি জানান, ২০২২ সালে কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও সংবাদ পরিষেবা এক মুহূর্তের জন্যও ব্যাহত হয়নি।

তিনি বলেন, প্রায় ৮০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম হিন্দুস্থান সমাচার দিল্লির পঞ্চকুঁইয়া রোড এলাকায় নিজস্ব স্থায়ী কার্যালয় কিনেছে, যেখানে আগামী ২৭ জুন স্থানান্তর করা হবে। সমস্ত সংগ্রাম এবং উত্থান-পতন সত্ত্বেও হিন্দুস্থান সমাচার নিজের আদর্শের সঙ্গে এগিয়ে চলেছে। প্রতিষ্ঠানটি পক্ষপাতী হতে পারে, কিন্তু কখনও পক্ষপাতদুষ্ট নয়।

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ




 

 rajesh pande