


- ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে অসমে অর্থনীতির অভূতপূর্ব সাফল্য : দিলীপ
- অসম পাঁচ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে : মন্ত্রী জয়ন্তমল্ল
- ‘অসমে আরও দুটি সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প স্থাপিত হতে চলেছে’
গুয়াহাটি, ২৪ জুন (হি.স.) : ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে অসমের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (ডিএসডিপি) উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে অর্থনৈতিক অগ্রগতির মাধ্যমে অসমবাসীকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি জনসাধারণের মৌলিক সমস্যাগুলির সমাধানেও সরকার সফল হয়েছে। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে অসমকে দেশের অন্যতম অগ্রণী রাজ্যে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলেছে, মন্তব্য অসম প্রদেশ বিজেপি সভাপতি দিলীপ শইকিয়ার।
আজ বুধবার হোটেল ভিভান্টায় অসম প্রদেশ বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত অসম সরকারের প্রাক-বাজেট আলোচনার উদ্বোধনী ভাষণে দিলীপ শইকিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়নে অসমের অর্থনৈতিক অগ্রগতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
প্রাক-বাজেট আলোচনায় মূল বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী জয়ন্তমল্ল বরুয়া বলেন, একটি বাস্তবভিত্তিক বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পরামর্শ অত্যন্ত সহায়ক। তিনি জানান, ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে বাজেট বাস্তবায়নের হার ৯০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে, তা শতভাগে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।
মন্ত্ৰী বরুয়া বলেন, আজ অসম কেন্দ্রের কাছ থেকে খুব গুরুত্ব পাচ্ছে। অতীতে যেভাবে কেন্দ্রের প্রতি অবহেলার অভিযোগ উঠত, সেই পরিস্থিতি আজ নেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ৩৫ বারেরও বেশি অসম সফর করে রাজ্যের প্রতি কেন্দ্র যে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে তার প্রমাণ দিয়েছেন।
অসমের অর্থনৈতিক রূপান্তরের প্রসঙ্গ তুলে জয়ন্তমল্ল বরুয়া বলেন, আগে অসমে ১-২ কোটি টাকার বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও কেউ আগ্রহ দেখাত না। অথচ বর্তমানে অসম পাঁচ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে। একটি সেমিকন্ডাক্টর শিল্প স্থাপনের পর আরও দুটি সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প স্থাপিত হতে চলেছে। তিনি বলেন, অসম দ্রুত বিনিয়োগের অন্যতম কেন্দ্রস্থলে পরিণত হচ্ছে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি নানা ধরনের পরামর্শ প্রদান করেছেন। আসাম এয়ার প্রডাক্টস-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর অভিজিৎ বরুয়া রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য এমএসএমই খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-র আদলে ‘মেক ইন আসাম’ কর্মসূচি বাস্তবায়নেরও প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, সরকারি নির্মাণকাজে বাঁশ ও বেতের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা উচিত।
কটন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রমেশ ডেকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য আরও আর্থিক সহায়তা প্রদানের অনুরোধ জানান। ডিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘বাহুবলী’-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর আকাশজ্যোতি গগৈ ডিম উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত ক্ষুদ্র খামারগুলির জন্য বিমা ক্ষেত্রে সরকারি ভর্তুকির দাবি জানিয়েছেন।
আজ অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় রাজ্যের বহু অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ১৫টি কলেজের অধ্যক্ষ, লেখক-বুদ্ধিজীবী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া সংগঠক এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
নাবার্ড, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব এন্টারপ্রেনিউরশিপ, নেডফি সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি আসাম এয়ার প্রডাক্টস-এর এমডি অভিজিৎ বরুয়া, ‘বাহুবলী’-র এমডি আকাশজ্যোতি গগৈ, জিএনআরসি-র এমডি ডা. নোমলচন্দ্র বরুয়া, এটিপিও-র জেনারেল ম্যানেজার সেলিম রাজা মণ্ডল, শিক্ষাবিদ দয়ানন্দ বুঢ়াগোহাঁই, সীতাজখলা-র চেয়ারম্যান রঞ্জীব শর্মা, আসাম অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি সুবোধমল্ল বরুয়া, লঘু উদ্যোগ ভারতীর সভাপতি পার্থপ্রতিম পাঠক, আর্থিক পরামর্শদাতা বিকাশ আগরওয়ালা, ওএনজিসি-র চন্দ্রশেখর শর্মা, উদ্যোক্তা মৃগাঙ্ক দাস এবং হ্যান্ডলুম ডিজাইনার সংযুক্তা দত্ত সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি তাঁদের মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেছেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অসম মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ রামেশ্বর তেলি, অশোক সিংহল, অজন্তা নেওগ, বিশ্বজিৎ দৈমারি, বিমল বরা, কৌশিক রায়, সাংসদ বিজুলি কলিতা মেধি, নীলিমা দেবী প্রমুখ। আলোচনাটি সঞ্চালনা করেছেন দলের প্রদেশ মুখপাত্র ড. দেবজিত মহন্ত।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস