স্বৈরাচারী শাসকের নিকৃষ্টতম দৃষ্টান্ত ইন্দিরা গান্ধী : দিলীপ শইকিয়া
– ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার স্মরণে অসম বিজেপির ‘কালো দিবস’ পালন - জরুরি অবস্থার সময় নির্যাতিত ও কারাবরণকারী ৪১ জন ‘লোকতন্ত্র সেনানী’-কে সংবর্ধনা গুয়াহাটি, ২৫ জুন (হি.স.) : ‘ক্ষমতা নিজেদের হাতে ধরে রাখার জন্য কংগ্রেস কতটা নীচে নামতে পারে, তার নিকৃ
জরুরি অবস্থার ৫১ বছর উপলক্ষ্যে গুয়াহাটিতে ‘কালো দিবস’-এর অনুষ্ঠান


– ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার স্মরণে অসম বিজেপির ‘কালো দিবস’ পালন

- জরুরি অবস্থার সময় নির্যাতিত ও কারাবরণকারী ৪১ জন ‘লোকতন্ত্র সেনানী’-কে সংবর্ধনা

গুয়াহাটি, ২৫ জুন (হি.স.) : ‘ক্ষমতা নিজেদের হাতে ধরে রাখার জন্য কংগ্রেস কতটা নীচে নামতে পারে, তার নিকৃষ্টতম উদাহরণ ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার ঘোষণা। ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা তথাকথিত গান্ধী পরিবারকে কীভাবে বিচলিত করে এবং তাদের বিবেচনাবোধকে শূন্য করে দেয়, তার উদাহরণ ইন্দিরা গান্ধী। দেশের জনগণ তাদের কাছে কেবল ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যম মাত্র। জনগণের রায়কেও উপেক্ষা করে তারা কীভাবে ক্ষমতার আসন থেকে নামতে না চেয়ে চরম স্বৈরাচারী আচরণ করতে পারে, তার ভয়াবহ দৃষ্টান্ত সেই জরুরি অবস্থার ঘোষণা।’ বক্তা অসম প্রদেশ বিজেপি সভাপতি দিলীপ শইকিয়া।

আজ গুয়াহাটিতে অবস্থিত শ্রীমন্ত শংকরদেব কলাক্ষেত্রের দামোদরদেব প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত ‘কালো দিবস’-এর অনুষ্ঠনে প্রদেশ সভাপতি দিলীপ শইকিয়া আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ ঘোষিত জরুরি অবস্থা ভারতবর্ষের জন্য এক গভীর অন্ধকার সময় নিয়ে এসেছিল।

তিনি বলেন, দেশের সাংবিধানিক ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক কাঠামোকে পদদলিত করে ইন্দিরা গান্ধী যে অরাজক ও অন্ধকার যুগের সূচনা করেছিলেন, তার জন্য দেশের সর্বস্তরের মানুষ কংগ্রেসকে ঘৃণার চোখে দেখেছিল। ‘অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা’র অজুহাতে ঘোষিত জরুরি অবস্থার ফলে বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, আইনসভা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও কর্তৃত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছিল।

দিলীপ বলেন, সে সময় ইন্দিরা গান্ধীর কথাই আইন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কংগ্রেস এবং গান্ধী পরিবারের বিরোধিতা করায় এক লক্ষেরও বেশি বিরোধী নেতা-কর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। সব ধরনের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও প্রতিবাদ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর মতো সাংস্কৃতিক সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। বিজেপির পূর্বসূরি রাজনৈতিক দল জনসংঘ-এর নেতা অটলবিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আদবানি সহ হাজার হাজার কাৰ্যকৰ্তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। এ সবই করা হয়েছিল কেবল ইন্দিরা গান্ধীর ক্ষমতা রক্ষার জন্য।

১৯৭০ সালে লোকসভা ভেঙে দিয়ে ১৯৭১ সালে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরে এলাহাবাদ হাইকোর্ট সেই নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধীর বিজয়কে অবৈধ ঘোষণা করলে ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা দেখা দেয়। কিন্তু পদত্যাগ না করে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে জরুরি অবস্থা জারি করেন ইন্দিরা।

দিলীপ শইকিয়া বলেন, ঐতিহাসিকভাবে কংগ্রেস সংবিধান ও গণতন্ত্রকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে, জরুরি অবস্থার ঘটনা সেই সত্যকেই বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়।

উল্লেখ্য, ইন্দিরা গান্ধীর ঘোষিত জরুরি অবস্থাকে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে স্মরণ করে ভারতীয় জনতা পার্টি আজ সারা দেশে ‘কালো দিবস’ পালন করছে। অসমেও প্রত্যেক সাংগঠনিক জেলা ও মণ্ডল পর্যায়ে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

শ্রীমন্ত শংকরদেব কলাক্ষেত্রের দামোদরদেব প্রেক্ষাগৃহে ওই ‘কালো দিন’-এর স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন থেকে ১৯৭৭ সালের ২১ মার্চ পর্যন্ত জরুরি অবস্থার সময় নির্যাতিত ও কারাবরণকারী ৪১ জন ‘লোকতন্ত্র সেনানী’-কে সংবর্ধনা জানিয়েছে প্ৰদেশ বিজেপি।

অনুষ্ঠানে দিলীপ শইকিয়া ছাড়া সেই কালো অধ্যায়ের ব্যাখ্যা সংবলিত বক্তব্য পেশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মাও। অনুষ্ঠানে বহুজনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির অসম প্ৰদেশ প্রভারি হরিশ দ্বিবেদী, অসম বিধানসভার অধ্যক্ষ রঞ্জিতকুমার দাস, মন্ত্রিসভার সদস্য নীলিমা দেবী, কৌশিক রায়, গুয়াহাটির সাংসদ বিজুলি কলিতা মেধি প্রমুখ। তাঁরাও জরুরি অবস্থার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং গণতন্ত্র ও সংবিধানের ওপর তার প্রভাব নিয়ে বক্তব্য পেশ করেছেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande