
দুর্গাপুর, ২৫ জুন (হি.স.): অজৈব রাসায়নিক সার প্রয়োগে বিষাক্ত হচ্ছে মাটি। একই সঙ্গে পরিবেশে বাড়ছে গ্রীন হাউস গ্যাস। এবার এই মাটিকে বিষাক্ত করা থেকে মুক্তি দিতে চাষীদের সবুজ সার প্রয়োগের পরামর্শ দিলেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। বৃহস্পতিবার পূর্ব বর্ধমানের বুদবুদে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে কৃষক সভায় এমন পরামর্শ দিলেন বিজ্ঞানীরা। একই সঙ্গে অনগ্রসর কৃষকদের বিনামূল্যে ধানের বীজ, কৃষি যন্ত্রপাতি ও ধনঞ্চে বীজ বিলি করা হল।
উল্লেখ্য, ভারত সরকারের উদ্যোগে গত একমাস ধরে দেশজুড়ে চলছে প্রাকৃতিক কৃষি ও ক্ষেত বাঁচাও কর্মশালা। তাতে জেলা ও বিভিন্ন ব্লকে চাষীদের নিয়ে নানান সচেতনতা শিবির চলছে। বৃহস্পতিবার বুদবুদ কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রে চাষীদের নিয়ে ছিল কৃষক সভা। এদিন উপস্থিত ছিলেন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ এগ্রিকালচার রিসার্চ(আইসিএআর) ও ক্রাইজাফ (সিআরআইএএফ) র ডাইরেক্টর ডঃ গৌরাঙ্গ কর। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, ক্রাইজাফের বরিষ্ঠ বিজ্ঞানী ডঃ এস শতপতি, ডঃ সিএস কর, বর্ধমান কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রমুখ, বরিষ্ঠ বিজ্ঞানী ডঃ সেখ মহম্মদ আজিজুর রহমান। অন্যান্য বছরের মত সংস্থার তরফে অনগ্রসর কৃষকদের উচ্চফলনশীল ধানের বীজ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। সংস্থার তরফে জানিয়েছে, বাঁকুড়া, দুই বর্ধমান, নদীয়া, দুই ২৪ পরগনা জেলায় প্রায় ৫০ টন সার্টিফায়েড ধানের বীজ এবছর বিলি করা হয়েছে। এছাড়াও বৃহঃস্পতিবার কৃষক সভায় উপস্থিত চাষীদের ধান বীজ, ব্যাটারী চালিত স্প্রে মেশিন ও ধনঞ্চা বীজ দেওয়া হয়।
এদিন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ এগ্রিকালচার রিসার্চ(আইসিএআর) ও ক্রাইজাফ (সিআরআইএএফ) র ডাইরেক্টর ডঃ গৌরাঙ্গ কর বলেন, মাটির উর্বরতা ও পরিবেশ রক্ষা করতে অজৈব রাসায়নিক সারের বদলে সবুজ সার ব্যবহার একটি অত্যন্ত কার্যকরী এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ। সবুজ সার ব্যবহারের মাধ্যমে মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং ফসলের ফলন ভালো হয়। এখন প্রশ্ন, সবুজ সার কী? সাধারণত দ্রুত বর্ধনশীল শিম্বগোত্রীয় ফসল, যেমন—ধনঞ্চা, মুগ, মাষকলাই, শনপাট ইত্যাদি ফুল আসার আগে কচি অবস্থায় মাটির সাথে মিশিয়ে পচিয়ে এই সার তৈরি করা হয়। মাটির পুষ্টি বৃদ্ধি পায়। এই জাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ে থাকা গুটি বা নডিউল বাতাস থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে মাটিতে জমা করে। কচি গাছগুলো মাটিতে পচে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও জৈব উপাদান সরবরাহ করে। সবুজ সার মাটির গঠন উন্নত করে, জল ধারণক্ষমতা বাড়ায়, আগাছা দমন করে এবং উপকারী অণুজীবের বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
গৌরাঙ্গবাবু বলেন, ধান চাষের ৪৫-৬০ দিন আগে জমিতে ধনঞ্চে, শন চাষ করতে হবে। গাছ একটু বড় হওয়ার পর সেগুলো লাঙ্গল দিয়ে মাড়িয়ে জমিতে মিশিয়ে দিতে হবে। তাতে জমিতে ধান চাষের সময় আলাদা করে নাইট্রোজেন যুক্ত রাসায়নিক সার দিতে হবে না। মাটির উর্বরতা বাড়বে। মাটির স্বাস্থ্য ভালো হবে। নাইট্রোজেন যুক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটিতে নাইট্রাস অক্সাইড উৎপন্ন হয়ে বায়ুমন্ডলে মেশে। এই সবুজ সার ব্যবহারে মাটিতে গ্রীন হাউস নাইট্রাস অক্সাইড উৎপন্ন কমবে। তিনি আরও বলেন, সবুজ সার ব্যবহারে চাষীদের খরচ কমবে। বায়ুমন্ডলে দূষণ কমবে ও চাষের মাটি স্বাস্থ্যকর হবে। বীজ উৎপাদনের জন্য, চলতি বছর আমরা ৭ হেক্টর জমিতে ধনঞ্চা ও ৭ হেক্টর জমিতে শন চাষ করা হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা