
আগরতলা, ২৫ জুন (হি.স.) : নেশা বিরোধী আন্দোলনে সামিল ব্যক্তিদের পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপারের কাছে ডেপুটেশন প্রদান করেছে ডেমোক্রেটিক ইয়ুথ ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (ডিওয়াইএফআই)। বৃহস্পতিবার সংগঠনের এক প্রতিনিধি দল পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপারের দফতরে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়।
ডেপুটেশন প্রদানকারী প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন ডিওয়াইএফআই-র রাজ্য সম্পাদক নবারুণ দেব, বিধায়ক নয়ন সরকারসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃত্ব।
ডিওয়াইএফআই নেতৃত্বের অভিযোগ, রাজ্য সরকার একদিকে মাদক ও নেশার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বললেও অন্যদিকে কিছু রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত এবং নেশা কারবারিরা যৌথভাবে নেশা বিরোধী আন্দোলনের কর্মীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। যারা প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে আন্দোলন স্তব্ধ করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি সংগঠনের।
ডেপুটেশন প্রদান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডিওয়াইএফআই রাজ্য সম্পাদক নবারুণ দেব বলেন, মোহনপুর এলাকায় নেশা বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন ডিওয়াইএফআই-এর স্থানীয় সভাপতি সুব্রত গোপ। মাদক চক্র এবং তাঁদের মদতদাতারা চক্রান্ত করে সুব্রত গোপকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নবারুণ দেব আরও বলেন, শুধু সুব্রত গোপই নন, নেশা বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শুভম বিশ্বাস ও প্রসেনজিৎ সরকারের বিরুদ্ধেও একই ধরনের মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে পুলিশ প্রশাসনের কাছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের সমালোচনা করলেই বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে মত প্রকাশের জেরেও অনেককে আইনি হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এসব ক্ষেত্রে পুলিশকে ব্যবহার করে গ্রেফতার করা হচ্ছে, আর অন্যদিকে শাসকদলের কর্মীরা বিরোধীদের বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হামলার ঘটনাও ঘটাচ্ছে।
ডিওয়াইএফআই নেতারা জম্পুইজলা এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনাসহ বিভিন্ন স্থানে বিরোধী কর্মীদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁরা দাবি করেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে হলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও মিথ্যা মামলার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে এবং নেশা বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
ডেপুটেশনে পুলিশ প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত শুরু করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে ডিওয়াইএফআই সূত্রে জানা গেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ