রাজ্য বাজেটে ঝাড়গ্রামের উন্নয়ন প্রকল্পকে স্বাগত বিজেপি বিধায়কের
ঝাড়গ্রাম, ২৫ জুন (হি.স.): রাজ্য বাজেটে ঝাড়গ্রামের জন্য ঘোষিত একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পকে স্বাগত জানালেন জেলার বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ। একই সঙ্গে সরকারি জমি দখল, আবাস যোজনায় অনিয়ম, তোলাবাজি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারের ব
রাজ্য বাজেটে ঝাড়গ্রামের উন্নয়ন প্রকল্পকে স্বাগত বিজেপি বিধায়কের


ঝাড়গ্রাম, ২৫ জুন (হি.স.): রাজ্য বাজেটে ঝাড়গ্রামের জন্য ঘোষিত একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পকে স্বাগত জানালেন জেলার বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ। একই সঙ্গে সরকারি জমি দখল, আবাস যোজনায় অনিয়ম, তোলাবাজি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও তুললেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলার উন্নয়ন ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন বিধায়ক।

বাজেটে ঘোষিত আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয়, নতুন মহকুমা, কুড়মি অ্যাকাডেমি, নবোদয় ও কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় এবং টাইগার সাফারির মতো প্রকল্পগুলিকে ঝাড়গ্রামের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন লক্ষ্মীকান্ত। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে জনজাতি অধ্যুষিত জেলার শিক্ষা ও প্রশাসনিক পরিকাঠামোর উন্নয়নের দাবি ছিল। প্রস্তাবিত আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে উচ্চশিক্ষার জন্য জেলার পড়ুয়াদের আর বাইরে যেতে হবে না এবং শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হবে। গোপীবল্লভপুর ও নয়াগ্রামকে নিয়ে নতুন মহকুমা গঠনের সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানান তিনি। এর ফলে প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের প্রশাসনিক পরিষেবা পেতে সুবিধা হবে বলে মত তাঁর। পাশাপাশি কুড়মি সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক বিকাশে কুড়মি অ্যাকাডেমির জন্য অর্থ বরাদ্দ এবং নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। ঝাড়গ্রাম জুলজিক্যাল পার্ককে কেন্দ্র করে টাইগার সাফারি গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে জেলার পর্যটন শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলেও দাবি করেন বিজেপি বিধায়ক। তাঁর মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে।

তবে উন্নয়নের প্রশংসার পাশাপাশি জেলার একাধিক সমস্যা নিয়েও বিধানসভায় সরব হন লক্ষ্মীকান্ত। ধরমপুর এলাকায় আলুচাষিদের স্বার্থে সরকারি উদ্যোগে হিমঘর নির্মাণের দাবি জানান তিনি। হিমঘরের অভাবে কৃষকদের উৎপাদিত আলু কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। এছাড়া মানিকপাড়া কলেজ ও ঝাড়গ্রাম শহরের মধ্যে সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত বাস পরিষেবা না থাকায় ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে পরিবহণ দপ্তরের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

বক্তব্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি জমি দখলের অভিযোগও তোলেন বিজেপি বিধায়ক। তাঁর দাবি, গত কয়েক বছরে বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি জমি বেআইনিভাবে দখল হয়ে গিয়েছে। সেগুলি উদ্ধার করে সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি ঝাড়গ্রামে বহু প্রবীণ নাগরিকের বাড়ি জবরদখলের অভিযোগ তুলে প্রকৃত মালিকদের হাতে সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান।

আবাস যোজনার উপভোক্তা তালিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন লক্ষ্মীকান্ত সাউ। ঝাড়গ্রাম শহরের এক তৃণমূল কাউন্সিলরের ছেলের নাম ওই তালিকায় থাকার অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি জঙ্গলমহলে তোলাবাজির অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন। প্রাক্তন বনমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদার বাড়ির সামনে হাতির মৃত্যুর ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিও জানান তিনি।

বিধানসভার বক্তব্যের শেষে লক্ষ্মীকান্ত সাউ বলেন, জঙ্গলমহলের সার্বিক উন্নয়ন, পর্যটনের প্রসার এবং আদিবাসী সমাজের শিক্ষা ও আর্থসামাজিক অগ্রগতির জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সেই উদ্দেশ্যেই তিনি জেলার মানুষের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা বিধানসভায় তুলে ধরেছেন বলে জানান।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো




 

 rajesh pande