জিবিপি-এজিএমসিতে প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের সিদ্ধান্ত আলোচনার ভিত্তিতেই, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
আগরতলা, ২৫ জুন (হি.স.) : জিবিপি হাসপাতাল ও আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজ (এজিএমসি)-এর চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করার সিদ্ধান্ত কোনওভাবেই জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। চিকিৎসক সংগঠনের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনার পর তাঁদের সম্মতির ভিত্তিতেই এই সি
মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা


আগরতলা, ২৫ জুন (হি.স.) : জিবিপি হাসপাতাল ও আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজ (এজিএমসি)-এর চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করার সিদ্ধান্ত কোনওভাবেই জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। চিকিৎসক সংগঠনের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনার পর তাঁদের সম্মতির ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে স্পষ্ট জানালেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর নজরুল কলাক্ষেত্রে ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। সম্প্রতি জিবিপি হাসপাতাল ও এজিএমসি-র চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী এদিন বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বহু মেডিকেল কলেজ এবং সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসক ও ফ্যাকাল্টিদের জন্য প্রাইভেট প্র্যাকটিসের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ত্রিপুরার জিবিপি হাসপাতাল বা এজিএমসি-র ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী কিছু নয়। তিনি জানান, মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান, গবেষণা এবং হাসপাতালের পরিষেবা পরিচালনা করা। প্রাইভেট প্র্যাকটিসে অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করলে তাঁরা শিক্ষাদান এবং রোগী পরিষেবায় আরও বেশি মনোনিবেশ করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, ‘‘হুট করে বা জোর-জবরদস্তি করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। চিকিৎসকদের সংগঠনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তাঁদের মতামত ও সম্মতির ভিত্তিতেই সরকার এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’’

মুখ্যমন্ত্রী জানান, আপাতত এটি একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু করা হয়েছে। এর ফলাফল ও কার্যকারিতা পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে আইজিএম হাসপাতালসহ অন্যান্য সরকারি হাসপাতালেও একই ধরনের ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করতে পারে। তাঁর মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং চিকিৎসা শিক্ষার পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।

এদিন সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী আসন্ন ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি)-এর ভিলেজ কমিটি নির্বাচন নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে জোট হবে কি না, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, স্থানীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনেক সময় জোটভুক্ত দলগুলিও নিজেদের রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে থাকে। ত্রিপুরায় অতীতেও এমন বহু ‘বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই’-এর নজির রয়েছে। ফলে ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণ কী হবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি বলে তিনি জানান।

রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সরকারের নতুন নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং অন্যদিকে আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে ঘিরে জোট রাজনীতির সম্ভাবনা— এই দুই বিষয়ই আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande