
ইটানগর, ২৫ জুন (হি.স.) : অরুণাচল প্রদেশের কেয়ি পানিয়র জেলায় হড়পা বানের জলে নিখোঁজ চারজনকে খুঁজে বের করতে পরিচালিত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যারাতে স্থগিত করা হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার সকাল থেকে ফের শুরু হবে অনুসন্ধান-উদ্ধার অভিযান, জানিয়েছেন রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড্যানি সুলু। তিনি জানান, সারাদিন ব্যাপক তালাশি চালিয়েও উদ্ধারকারী দল নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান পায়নি।
অবিরাম বর্ষণের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা বুধবার সকালে পুসা এলাকার নিপকো কলোনিতে আঘাত হানে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়, বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং একাধিক স্থানে ভূমিধসের ঘটনা ঘটে।
আধিকারিকরা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অতিরিক্ত রাজ্য দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনী (এসডিআরএফ) এবং পুলিশ সদস্যদের পৌঁছে দিতে ভারতীয় বায়ুসেনার একটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি আটকে পড়া পর্যটক ও রোগীদেরও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবারের উদ্ধার অভিযানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসডিআরএফ, এনইইপিসিও, প্রাক্তন সেনাকর্মী এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা অংশ নেন। অভিযান আরও জোরদার করতে পিটাপুল এলাকায় অতিরিক্ত এসডিআরএফ দল ও সরঞ্জাম বিমানযোগে পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিক মূল্যায়নে জানা গেছে, নিপকো কলোনি ও সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১৮টি আবাসিক ইউনিট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দুর্যোগে ৩৫ বছর বয়সি এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ১৭ জন আহত হয়েছেন।
জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (ডিডিএমএ) জানিয়েছেন, বর্তমানে নিখোঁজ চারজনকে খুঁজে বের করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন করাই প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে, ভারী বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের কারণে কেয়ি পানিয়র, ক্রা দাদি, কুরুং কুমেই, লোয়ার সুবনশিরি, কামলে এবং আপার সুবনশিরি, এই ছয়টি জেলা রাজ্যের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া জাতীয় সড়ক-১৩-এর ইটানগর-হোজ-ইয়াজালি অংশে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
অরুণাচল প্রদেশের রাজ্যপাল কেটি পারনাইক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা, আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা এবং সাধারণ মানুষকে সময়মতো সতর্কবার্তা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস