
ওয়াশিংটন, ২৭ জুন (হি.স.) : হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগ তুলে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এই ঘটনার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে আমেরিকা।
শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা খুব শিগগিরই জানতে পারবেন। গতকাল তারা গুলি চালিয়েছে, আসলে চারটি ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। আমরা তিনটি মাটিতে আছড়ে ফেলেছি । একটি অত্যন্ত মূল্যবান জাহাজ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ধরনের কাজ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
এর কিছুক্ষণ আগেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ২৬ জুন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। সেন্টকমের দাবি, ২৫ জুন ওমান উপকূল সংলগ্ন হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এম/ভি এভার লাভলি-র উপর একমুখী ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
মার্কিন সেনাবাহিনীর বক্তব্য, ওই হামলা ছিল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপরিবহণের উপর অযৌক্তিক আগ্রাসন এবং সদ্য কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে নৌচলাচলের স্বাধীনতাকেও এই হামলা বিপন্ন করেছে বলে অভিযোগ সেন্টকমের।
সেন্টকম জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে মার্কিন বাহিনী এখনও ওই এলাকায় মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক নৌপরিবহণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে প্রয়োজনীয় জবাব দিতে সেনাবাহিনী প্রস্তুত বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে, উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে ইরানের সংসদ সদস্য ইব্রাহিম আজিজি সামাজিক মাধ্যমে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-ভুক্ত দেশগুলিকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, মার্কিন সামরিক ঘাঁটির উপর নির্ভরশীলতা গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তাকে আরও অনিশ্চিত করছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং হরমুজ প্রণালীর উপর তাদের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনওভাবেই আপসযোগ্য নয়।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য