
কলকাতা, ২৭ জুন (হি. স.) : তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে ১৭ জনের মৃত্যুর ঘটনায় আইনি চাপ বাড়ল কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওপর। এবার তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি তারাতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করল ভারতীয় জনতা মজদুর সেলের (বিজেএমসি) দক্ষিণ কলকাতা শাখা। একই সঙ্গে এই অভিযোগে নাম রয়েছে কলকাতা পুরসভার ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার আনোয়ার খান এবং ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার সামস ইকবালেরও।
বিজেএমসি-র দক্ষিণ কলকাতা শাখার পক্ষ থেকে দায়ের করা ওই অভিযোগপত্রে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৭ জনের এই মৃত্যু কোনো নিছক দুর্ঘটনা নয়। এর পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট গাফিলতি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র। এই লিখিত অভিযোগপত্রকে এফআইআর হিসেবে গণ্য করে অবিলম্বে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করার দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনটির দক্ষিণ কলকাতা জেলা সভাপতি এমবি মহেশ অভিযোগ করে বলেন, কলকাতা পোর্ট এলাকায় যত বেআইনি নির্মাণ হয়েছে, সবই ববি হাকিম, আনোয়ার খান আর সামস ইকবালের মদতে। অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি এই সিন্ডিকেট চক্রের মূল মাথা ববি হাকিম নিজে। অবিলম্বে এদের সবাইকে গ্রেফতার করতে হবে।
এই ঘটনার জল গড়িয়েছে বিধানসভা পর্যন্ত। গত বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, কলকাতা পুরসভার তৎকালীন কর্তৃপক্ষ তারাতলার যে গোডাউনের নকশায় অনুমোদন দিয়েছিল, সেখানে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সই রয়েছে। নকশাটি যে ত্রুটিপূর্ণ ছিল এবং তাতে চূড়ান্ত অনুমোদন যে তৎকালীন মেয়রই দিয়েছিলেন, সেই নথি তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পাশাপাশি প্রাক্তন মেয়রের ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও উঠে আসে এবং বৃহস্পতিবার রাতেই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। কালীচরণের গ্রেফতারের পর থেকেই প্রাক্তন মেয়রের ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি পায়।
রাজ্যের বর্তমান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও এই বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, যদি তৎকালীন ওএসডি কালীচরণ গ্রেফতার হতে পারেন, তবে যাঁর নোটে সই ছিল, সেই তৎকালীন পুরমন্ত্রী ও প্রাক্তন মেয়র কেন ছাড় পাবেন? এই ঘটনায় জড়িত কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফিরহাদ হাকিম। তাঁর দাবি, কোনো নির্মাণের নকশায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার এক্তিয়ার মেয়রের থাকেই না। বিল্ডিং প্ল্যান খতিয়ে দেখার সম্পূর্ণ দায়িত্ব বিল্ডিং ডিপার্টমেন্টের। তারাতলা থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি