জিআই ট্যাগ পেল চন্দননগরের জলভরা, জনাইয়ের মনোহরা ও বলাগড়ের ডিঙি নৌকা
হুগলি, ২৮ জুন (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গের তিন ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন—চন্দননগরের জলভরা সন্দেশ, জনাইয়ের মনোহরা এবং বলাগড়ের ডিঙি নৌকা ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন (জিআই) ট্যাগ পেয়েছে। এই স্বীকৃতিকে বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি শিল্প ও হস্তশিল্
জিআই ট্যাগ পেল চন্দননগরের জলভরা, জনাইয়ের মনোহরা ও বলাগড়ের ডিঙি নৌকা


হুগলি, ২৮ জুন (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গের তিন ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন—চন্দননগরের জলভরা সন্দেশ, জনাইয়ের মনোহরা এবং বলাগড়ের ডিঙি নৌকা ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন (জিআই) ট্যাগ পেয়েছে। এই স্বীকৃতিকে বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি শিল্প ও হস্তশিল্পের জন্য বড় সম্মান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইতিহাস অনুযায়ী, ১৮১৮ সালে সূর্যকুমার মোদক প্রথম জলভরা সন্দেশ তৈরি করেন। জামাইষষ্ঠী উপলক্ষে মজার ছলে তৈরি এই মিষ্টির ভিতরে তরল গুড় বা গোলাপজল ভরা থাকে। কাটতেই ভিতর থেকে বেরিয়ে আসে মিষ্টি রস। জিআই ট্যাগ পাওয়ায় এই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি জাতীয় স্তরে নতুন পরিচিতি পেল।

হুগলির জনাইয়ের মনোহরা তার স্বতন্ত্র স্বাদ ও প্রস্তুত প্রণালীর জন্য সুপরিচিত। ছানা, চিনি ও এলাচ দিয়ে তৈরি এই মিষ্টিকে পরে চিনির ঘন রসে ডুবিয়ে শক্ত চিনির আবরণ দেওয়া হয়। বাইরে মচমচে ও ভিতরে নরম এই মিষ্টি দীর্ঘদিন ভালো থাকে। জিআই ট্যাগের ফলে দেশ-বিদেশের বাজারে এর চাহিদা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বলাগড় ব্লকের শ্রীপুর-বলাগড় এলাকার ঐতিহ্যবাহী ডিঙি নৌকা নির্মাণ শিল্পও জিআই ট্যাগের স্বীকৃতি পেয়েছে। বহু প্রজন্ম ধরে এখানকার কারিগরেরা কাঠের ছোট নৌকা তৈরি করে আসছেন, যা বাংলার নদীকেন্দ্রিক সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্লাস্টিক ও ফাইবারের নৌকার বাড়বাড়ন্তে এই শিল্প সংকটে পড়লেও জিআই ট্যাগের ফলে কারিগরেরা নতুন পরিচিতি ও বাজার সম্প্রসারণের আশা করছেন।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, জিআই ট্যাগপ্রাপ্ত তিনটি ঐতিহ্যই হুগলি জেলার। ফলে এই স্বীকৃতিকে জেলার জন্য একপ্রকার 'ট্রিপল ক্রাউন' সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande