
কলকাতা, ৩ জুন (হি.স.): সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিতি এবং নিয়মানুবর্তিতা নিয়ে কড়া অবস্থান নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নবান্নের তরফে জারি করা নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখন থেকে সমস্ত সরকারি কর্মচারীকে নির্ধারিত সময়ে অফিসে পৌঁছাতে হবে এবং ছুটির সময় পর্যন্ত অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে। নিয়মের অন্যথা হলে অনুপস্থিত গণ্য করা হবে এবং ছুটিও কাটা যেতে পারে।
সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে যে, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা, অফিসগুলিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং হাজিরা রেকর্ডের ডিজিটাল সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এই নতুন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। আগামী ১৫ জুন থেকে নবান্নের সমস্ত বিভাগে এই নিয়ম কার্যকর হবে এবং ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে রাজ্যের সমস্ত সরকারি অফিসে এটি চালু করে দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও জানিয়েছিলেন যে, প্রত্যেক কর্মচারীকে নিজের কাজের প্রতি দায়বদ্ধ হতে হবে। তাঁদের সময়মতো অফিসে আসতে হবে এবং সময় মেনেই অফিস ছাড়তে হবে। সমস্ত সরকারি অফিসে বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা চালু করা হবে।
বিজ্ঞপ্তির মূল বিষয়গুলি হলো :
পশ্চিমবঙ্গ চাকরি বিধি (পার্ট-১)-এর ২৯এ নিয়ম অনুযায়ী, কর্মচারীদের সদর দফতরের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসের বাধ্যবাধকতা থেকে আগে যে ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা বজায় থাকবে।
নবান্নে কর্মরত সমস্ত কর্মচারীর (বিভাগীয় প্রধানদের বাদ দিয়ে) অফিসে ঢোকা ও বেরোনোর সময় ফেস রিকগনিশন (মুখাবয়ব চিহ্নিতকরণ) ভিত্তিক বায়োমেট্রিক সিস্টেমে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক হবে।
সকাল ১০:১৫ থেকে বেলা ১১:০০ টার মধ্যে হাজিরা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে 'দেরি' (লেট) বলে গণ্য করা হবে।
বেলা ১১:০০ টার পর হাজিরা দিলে সেই কর্মচারীকে ওই দিনের জন্য অনুপস্থিত গণ্য করা হবে।
বিকেল ৫:১৫ মিনিটের আগে অফিস ছাড়লে তা নির্ধারিত সময়ের পূর্বে প্রস্থান হিসেবে বিবেচিত হবে।
যদি কোনো কর্মচারী একই দিনে দেরিতে আসেন এবং নির্ধারিত সময়ের আগে অফিস ছেড়ে চলে যান, তবে তাঁকে ওই দিন অনুপস্থিত ধরা হবে এবং তাঁর একদিনের ক্যাজুয়াল লিভ (সিএল) কেটে নেওয়া হবে।
অফিস থেকে বেরোনোর সময় বায়োমেট্রিক সিস্টেমে 'আউট-পাঞ্চ' না করলেও কর্মচারীকে অনুপস্থিত বলে গণ্য করা হবে।
কোনো মাসে তিনবার দেরিতে পৌঁছালে বা সময়ের আগে অফিস ছাড়লে একদিনের ক্যাজুয়াল লিভ বা চাইল্ড কেয়ার লিভ কাটা যাবে।
পশ্চিমবঙ্গ চাকরি বিধি (পার্ট-১)-এর ১৫ নম্বর নিয়ম অনুযায়ী, প্রয়োজনে অফিসের সময় শেষ হওয়ার পরেও কর্মচারীদের সরকারি কাজ করতে হবে।
কোনো কর্মচারী বা আধিকারিককে যদি সরকারি বৈঠক বা অফিশিয়াল কাজের কারণে দেরিতে আসতে হয় বা আগে চলে যেতে হয়, তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধান প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ব্যবস্থা করবেন।
সরকারের এই সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সরকারি অফিসগুলির কর্মসংস্কৃতিকে আরও বেশি দায়বদ্ধ করার লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। আধিকারিকদের মতে, এই নতুন ব্যবস্থার ফলে কর্মচারীদের উপস্থিতির ওপর নজরদারি আরও কার্যকর হবে এবং সরকারি পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়বে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি