
ঝাড়গ্রাম, ৩০ জুন (হি.স.) : অনাস্থা প্রস্তাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন মেলায় ঝাড়গ্রামের সাঁকরাইল ব্লকের পাথরা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের পদ হারালেন তৃণমূল কংগ্রেসের দীপক বৈষ্ণব। মঙ্গলবার সাঁকরাইল পঞ্চায়েত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ সভায় উপস্থিত আট সদস্যই তাঁর বিরুদ্ধে ভোট দেন। ফলে অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং প্রধানের পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে নতুন প্রধান নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পাথরা গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট সদস্য সংখ্যা ১১। এর মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের আট জন এবং বিজেপির তিন জন সদস্য রয়েছেন। অনাস্থা সভায় প্রধান দীপক বৈষ্ণব উপস্থিত ছিলেন না। সভায় তৃণমূলের পাঁচ জন ও বিজেপির তিন জন সদস্য উপস্থিত থেকে অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। উপস্থিত ছিলেন জয়েন্ট বিডিও অনুশ্রী মাশাট এবং পঞ্চায়েত উন্নয়ন আধিকারিক আলম আনসারি।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়েছিল। নির্ধারিত নিয়ম মেনে মঙ্গলবার সেই প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটি হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পাওয়ায় অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং প্রধানের পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়।
এদিকে, প্রধানের বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। দলের সাঁকরাইল মণ্ডলের নেতা শুভঙ্কর মাহাতোর দাবি, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই প্রধান এলাকায় অনুপস্থিত। তাঁর অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে পঞ্চায়েতের বিভিন্ন পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। শংসাপত্র, উত্তরাধিকার-সহ একাধিক প্রয়োজনীয় নথি না পেয়ে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। তাই দ্রুত নতুন প্রধান নির্বাচন করে পঞ্চায়েতের স্বাভাবিক কাজকর্ম চালু করার দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে প্রধান দীপক বৈষ্ণবের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো