
গুয়াহাটি, ২ জুলাই (হি.স.) : কেন্দ্রীয় মৎস্য, পশুপালন ও দুগ্ধ উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন (লালন) সিঙের সঙ্গে বৈঠক করে অসমে মৎস্য ও দুগ্ধ ক্ষেত্ৰের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা।
আজ বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব রঞ্জনের সরকারি বাসভবনে গিয়ে বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অসমের মৎস্য সম্পদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, রফতানি সম্প্রসারণ এবং এই খাতের মূল্য শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বৈঠকে। পাশাপাশি, মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ পরিকাঠামোর উন্নয়ন, বাজার সম্প্রসারণ এবং অসমকে দেশের অন্যতম প্রধান মৎস্য উৎপাদন ও রফতানিকারক রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
অনুষ্ঠিত বৈঠক সম্পর্কে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা জানান, আজকের বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লালন সিঙের অভিজ্ঞতা ও গভীর জ্ঞান রাজ্যের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, বৈঠকে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্য শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করা, আধুনিক প্রক্রিয়াকরণ পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং উন্নত বাজার সংযোগের মাধ্যমে মাছ রফতানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সেগুলিকে বাস্তবায়নের মাধ্যমে অসমকে দেশের অন্যতম প্রধান মাছ উৎপাদন ও রফতানির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে রাজ্য সরকার উদ্যোগ নেবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্ৰী।
বৈঠকে অসমের দুগ্ধ শিল্পের উন্নয়ন নিয়েও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দুগ্ধ সমবায় সমিতিগুলিকে আরও শক্তিশালী করা, পশু চিকিৎসা পরিষেবা সম্প্রসারণ, পশু ঔষধি কেন্দ্র স্থাপন, টেট্রা প্যাক (ইউএইচটি) প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র ও দুধের গুঁড়ো উৎপাদন কারখানা স্থাপন এবং কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে গবাদি পশুর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব লালন সিংও তাঁর এক্স-এ পৃথক এক পোস্টে বৈঠককে আন্তরিক ও ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, বৈঠকে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, রফতানি সম্প্রসারণ, মূল্য শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করা এবং প্রক্রিয়াকরণ পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে অসমের মৎস্য খাতের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর একটি সমন্বিত রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দুগ্ধ সমবায় সমিতিগুলিকে শক্তিশালী করা, পশু চিকিৎসা পরিষেবা সম্প্রসারণ, পশু ঔষধি কেন্দ্র স্থাপন, টেট্রা প্যাক ও দুধের গুঁড়ো উৎপাদন কারখানা গড়ে তোলা এবং কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে গবাদি পশুর মানোন্নয়নের বিষয়েও উভয় পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রধানসচিব কেকে দ্বিবেদী, অসম ভবনের আবাসিক কমিশনার কবিতা পদ্মনাভন সহ কেন্দ্রীয় এবং অসম সরকারের বিভাগীয় শীর্ষ আধিকারিকগণ।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস