
কোহিমা, ২১ জুলাই (হি.স.) : অবিরাম প্রবল বর্ষণের জেরে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নাগাল্যান্ডে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। আজ মঙ্গলবার মন জেলায় আরও পাঁচটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও চারজন নিখোঁজ বলে জানিয়েছে নাগাল্যান্ড রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএমএ)। উদ্ধারকারী দল তাঁদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে, জানিয়েছে এনএসডিএমএ।
রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বন্যা ও ভূমিধসে রাজ্যজুড়ে ৭,৪৬০-এর বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে বিস্তারিত সমীক্ষা শেষ হলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা এবং সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মন জেলা। সেখানে এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এর মধ্যে মন শহরের শান্তম ওয়ার্ডে ভূমিধসে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে উদ্ধারকারী দল নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, নাগিনিমোরা এলাকায় আকস্মিক বন্যার জলে ভেসে যাওয়া চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন গুরুতর আহত এবং বাকি তিনজন সামান্য আহত হয়েছেন। চারজনকেই চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ১০টি জেলার মোট ৯৩টি গ্রাম এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৬৪টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, বহু দুর্গম এলাকা থেকে এখনও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে পশুসম্পদের ওপরও। এখন পর্যন্ত ১৫টি মিথুন, ১৩টি গরু এবং ৫৩টি শূকর সহ মোট ৮৩টি গবাদি পশুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে গ্রামীণ এলাকার বহু পরিবারের জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শামাতোর জেলাও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির অন্যতম। সেখানে ছয়টি গ্রামের প্রায় ৭ হাজার মানুষ ভূমিধসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তুয়েংসাঙ জেলার ১২টি গ্রামে ২০১ জন এবং জুনহেবোটো জেলার প্রায় ৩০টি গ্রামে ২৬ জন ভূমিধসের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
টানা বৃষ্টির জেরে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি জনপরিকাঠামো, কৃষিজমি এবং বিভিন্ন জরুরি পরিষেবাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিধসপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকতে, অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের জারিকৃত নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস