‘অপারেশন জল রাহত’-এর বলে আপার আসামে ৫৭১ জন বন্যাৰ্তকে উদ্ধার ভারতীয় সেনার
গুয়াহাটি, ২১ জুলাই (হি.স.) : বন্যায় বিপর্যস্ত আপার আসামে ভারতীয় সেনাবাহিনী-পরিচালিত ‘অপারেশন জল রাহত’-এর বলে এখন পর্যন্ত ৫৭১ জন বন্যাৰ্তকে নিরাপদ স্থানে উদ্ধার করা হয়েছে। ক্রমাগত জলস্তর বৃদ্ধির ফলে প্লাবিত এলাকাগুলিতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আর
‘অপারেশন জল রাহত’–এর বলে বন্যাৰ্তদের উদ্ধার ভারতীয় সেনার


গুয়াহাটি, ২১ জুলাই (হি.স.) : বন্যায় বিপর্যস্ত আপার আসামে ভারতীয় সেনাবাহিনী-পরিচালিত ‘অপারেশন জল রাহত’-এর বলে এখন পর্যন্ত ৫৭১ জন বন্যাৰ্তকে নিরাপদ স্থানে উদ্ধার করা হয়েছে। ক্রমাগত জলস্তর বৃদ্ধির ফলে প্লাবিত এলাকাগুলিতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে ভারতীয় সেনা।

তেজপুরে অবস্থিত সেনাবাহিনীর জনসংযোগ আধিকারিকের প্ৰকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত ১৯ জুলাই থেকে স্পিয়ার কর্পস-এর অধীন রেড শিল্ড ডিভিশন-এর চারটি বন্যা ত্রাণ কলাম মোতায়েন করা হয়। এঁরা শিবসাগর, চড়াইদেও এবং যোরহাট জেলায় উদ্ধার এবং ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ‘অপারেশন জল রাহত’-এর অংশ হিসেবে ৪৫ জন সেনা সদস্য নিয়ে গঠিত তিনটি বিশেষ ত্রাণদল শিবসাগর, চড়াইদেও এবং যোরহাট জেলায় সহ সর্বাধিক বন্যাপ্রভাবিত এলাকাগুলিতে মোতায়েন করা হয়েছে।

অসম সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সেনাবাহিনী মোটরবোটের সাহায্যে উত্তাল বন্যার জলে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করছে। বিশেষ প্রকৌশল সরঞ্জাম ও জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে এই দলগুলি শিশু, প্রবীণ এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে।

উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রীও বিতরণ করছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

জনৈক শীর্ষ সেনা আধিকারিক বলেন, দেশের সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোও ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

বর্তমানে শিবসাগর জেলার নাজিরা ও আমগুড়ি, চড়াইদেও জেলার সোনারি এবং যোরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনীর ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। স্পিয়ার কর্পস-এর অন্যান্য ইউনিটও এই অভিযানে সহযোগিতা করছে।

সেনাবাহিনীর জনসংযোগ আধিকারিকের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকারী দলগুলির কাছে রয়েছে নৌকা, চিকিৎসক দল, ইঞ্জিনিয়ারিং সরঞ্জাম এবং ত্রাণসামগ্রী। সেনাবাহিনী প্লাবিত এলাকায় আটকে পড়া বহু পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা এবং ত্রাণসামগ্রীও বিতরণ করছে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক মূল্যায়ন এবং দ্রুত উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য হেলিকপ্টার থেকে আকাশপথে নজরদারি ও ড্রোনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং দলও মোতায়েন করা হয়েছে।

শিবসাগর, চড়াইদেও এবং যোরহাট জেলা প্রশাসন, ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এনডিআরএফ), স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এসডিআরএফ) এবং অন্যান্য অসামরিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে তাৎক্ষণিক মোতায়েনের জন্য অতিরিক্ত বাহিনী ও সরঞ্জামও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

অসম এবং প্রতিবেশী অরুণাচল প্রদেশ এবং নাগাল্যান্ডে অবিরাম বৃষ্টির জেরে ব্রহ্মপুত্র এবং তার একাধিক উপনদীর জলস্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন-এর তথ্য বলছে, চড়াইদেও জেলার দিশাংপানি এবং দিশাং নদীর জলস্তর অতীতের সর্বোচ্চ বন্যাস্তর অতিক্রম করেছে। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র দিখৌ, বুড়িদিহিং এবং ধনশিরি দক্ষিণ নদীতেও জল বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এদিকে সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান বন্যায় অসমের ৩০টি রাজস্ব চক্রের অন্তর্গত অন্তত ৫৮০টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চড়াইদেও, শিবসাগর, যোরহাট এবং গোলাঘাট জেলায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজে এনডিআরএফ এবং এসডিআরএফ-এর দলও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

তবে, কিছু কিছু এলাকায় ধীরে ধীরে বন্যার জল নামতে শুরু করলেও আপার আসামের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে ভারতীয় সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande