ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করতে বিরোধী সাংসদদের বাধা, হাসপাতালের বাইরে পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ স্ত্রীর
গুরগাঁও, ২২ জুলাই (হি.স.): শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করতে আসা বিরোধী সাংসদদের হাসপাতালে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠল। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওয়াংচুকের স্ত্রী চিকিৎসক গীতাঞ্জলি অ্যাংমো। বুধবার গুরগাঁওয়ের মেদান্তা হাসপাতা
ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করতে বিরোধী সাংসদদের বাধা, হাসপাতালের বাইরে পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ স্ত্রীর


গুরগাঁও, ২২ জুলাই (হি.স.): শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করতে আসা বিরোধী সাংসদদের হাসপাতালে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠল। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওয়াংচুকের স্ত্রী চিকিৎসক গীতাঞ্জলি অ্যাংমো। বুধবার গুরগাঁওয়ের মেদান্তা হাসপাতালের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক পুলিশি উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

গীতাঞ্জলি অ্যাংমো বলেন, “আমি মেদান্তা হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছি। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, আমার পিছনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। গতকাল হাইকোর্টের নির্দেশে সোনমকে সফদরজং হাসপাতাল থেকে এখানে স্থানান্তর করা হয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল, সোনম কোনওভাবেই আটক নন এবং উন্নত চিকিৎসা ও স্বাধীন পরিবেশে থাকার জন্যই তাঁকে এখানে আনা হয়েছে, যাতে সেখানে পুলিশের উপস্থিতি না থাকে।”

তিনি বলেন, “একজন ভারতীয় নাগরিক ২৫ দিন ধরে অনশন করছেন। অথচ তাঁকে মানসিক শান্তি দেওয়া হচ্ছে না। বরং এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত চাপের। সবচেয়ে লজ্জার বিষয় হল, একাধিক সাংসদ সোনমকে অনশন ভাঙার আবেদন জানিয়ে স্বাক্ষরিত চিঠি নিয়ে এসেছেন। কিন্তু সরকার যদি তাঁদের তাঁর সঙ্গে দেখা করতেই না দেয়, তাহলে সরকারের উদ্দেশ্য কী? তারা কি চায় না যে সোনম অনশন ভাঙুন?”

গীতাঞ্জলি জানান, সোনম ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছেন যে সাংসদদের অনুরোধ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের অন্যায় ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস পাওয়ার পরই তিনি অনশন ভাঙবেন। তাঁর কথায়, “কোনও আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে আইনি, শারীরিক বা এফআইআর—কোনও ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। এমন আশ্বাসই তিনি চাইছেন।”

তিনি আরও বলেন, সোনমের সঙ্গে দেখা করতে চাওয়া সাংসদদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর কথায়, “২৫ দিন ধরে অনশন করার পরেও সোনমের গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সূচকগুলি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে শরীর ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে, পেশির পরিমাণ কমছে এবং ক্রমশ শক্তি হ্রাস পাচ্ছে। যদিও এই মুহূর্তে তাঁর অবস্থা জীবনসঙ্কটজনক নয়।”

কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে গীতাঞ্জলি বলেন, “ভারতকে আমরা গণতান্ত্রিক দেশ বলি। অথচ লাদাখ থেকে প্রায় ১০ জন নেতা এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন, তাঁদের সোনমের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। সোনমের আইসিইউ-র বাইরে এত বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যে হাসপাতালের কর্মীরাও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন—মেদান্তায় এমন কী ঘটেছে?”

এদিন সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করতে বিরোধী দলের একাধিক সাংসদ হাসপাতালে পৌঁছন। তাঁরা সোনমের অনশন ভাঙার আবেদন জানিয়ে একটি স্বাক্ষরিত চিঠিও নিয়ে এসেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande