ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফায় আগরতলায় ছাত্রসমাজের উল্লাস
আগরতলা, ২৫ জুলাই (হি.স.) : দীর্ঘ আন্দোলনের পর ছাত্র-ছাত্রীদের অন্যতম প্রধান দাবি মেনে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মতো ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলাতেও আন্দ
ছাত্রসমাজের উল্লাস


আগরতলা, ২৫ জুলাই (হি.স.) : দীর্ঘ আন্দোলনের পর ছাত্র-ছাত্রীদের অন্যতম প্রধান দাবি মেনে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মতো ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলাতেও আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের ঢেউ বয়ে যায়। তবে উল্লাসের মাঝেও আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শুধু পদত্যাগ নয়, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা বাতিল এবং গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতৃত্বে ছাত্র আন্দোলনের সূচনা হয়। সেই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। ধীরে ধীরে সেই আন্দোলন দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং অসংখ্য ছাত্র-যুব এতে সামিল হন।

শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর সামনে আসতেই আগরতলার সার্কিট হাউজ সংলগ্ন আন্দোলনস্থলে উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীরা উল্লাস প্রদর্শন করেন। আন্দোলনস্থলে শুরু হয় স্লোগান, করতালি ও নাচ-গান। একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে শুভেচ্ছা জানান আন্দোলনকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, এই লড়াই কেবল একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ছিল না, বরং একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ও প্রশ্নবিদ্ধ শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এদিন পদত্যাগের খবর প্রকাশিত হওয়ার কিছুক্ষণ আগেই আন্দোলনস্থলে এসে ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কিছু সময় কাটিয়ে তাঁদের দাবি-দাওয়ার প্রতি সমর্থন জানান। তাঁর সেখান থেকে চলে যাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার খবর পৌঁছায় আন্দোলনস্থলে, যা মুহূর্তের মধ্যে উৎসবের পরিবেশ তৈরি করে।

আন্দোলনরত জনৈক ছাত্রনেতা বলেন, “এই জয় শুধুমাত্র আমাদের নয়। এটি দেশের প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর জয়, স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের জয় এবং যাঁরা এই লড়াইয়ের মধ্যে মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করেছেন কিংবা আত্মহত্যার মতো চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধার জয়। তবে আমরা মনে করি, শুধুমাত্র একজন মন্ত্রীর পদত্যাগে সমস্যার সমাধান হবে না। শিক্ষা ব্যবস্থায় পূর্ণাঙ্গ সংস্কার, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।”

সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপতেও ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “এই ঐতিহাসিক সাফল্যের কৃতিত্ব দেশের ছাত্রসমাজ ও যুবসমাজের। তাঁদের শান্তিপূর্ণ কিন্তু দৃঢ় আন্দোলনের ফলেই সরকারকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আন্দোলন এখানেই শেষ নয়, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে।”

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেও একই ধরনের উল্লাসের ছবি দেখা গেছে। তবে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, এই ঘটনাকে তাঁরা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখলেও প্রকৃত সাফল্য তখনই আসবে, যখন দেশের পরীক্ষা ও শিক্ষা ব্যবস্থায় স্থায়ী সংস্কার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande