
আগরতলা, ২৬ জুলাই (হি.স.) : কারগিল যুদ্ধে আত্মবলিদানকারী বীর সেনানীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কারগিল বিজয় দিবস পালন করল ত্রিপুরা প্রশাসন। এ উপলক্ষ্যে রবিবার রাজধানী আগরতলায় অ্যালবার্ট এক্কা ওয়ার মেমোরিয়াল পার্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলা শাসক ডাঃ বিশাল কুমার, আধাসামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন আধিকারিক, প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধিসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। শহিদ বীর জওয়ানদের স্মরণে নীরবতা পালন এবং শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
কারগিল বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে রাজ্যপাল বলেন, কারগিল যুদ্ধ ভারতীয় সেনাবাহিনীর অদম্য সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল ইতিহাস। দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় যে বীর সেনারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ কখনও বিস্মৃত হওয়ার নয়। তাঁদের বীরত্ব আগামী প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে। তিনি আরও বলেন, শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তিনি এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সেনা ও অনুপ্রবেশকারীরা পরিকল্পিতভাবে লাদাখের কারগিল অঞ্চলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি চূড়া দখল করে নেয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতীয় সেনাবাহিনী 'অপারেশন বিজয়' শুরু করে। প্রায় আড়াই মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ভারতীয় সেনারা একের পর এক কৌশলগত অবস্থান পুনর্দখল করে এবং ২৬ জুলাই কারগিলকে সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত ঘোষণা করা হয়। সেই ঐতিহাসিক বিজয়ের স্মরণে প্রতিবছর ২৬ জুলাই দেশজুড়ে কারগিল বিজয় দিবস পালন করা হয়।
এ বছর কারগিল বিজয়ের ২৭ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি ত্রিপুরাতেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরাও শহিদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন এবং দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগের আদর্শ অনুসরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধে ভারতের ৫২৭ জন সেনা শহিদ হন এবং ১,৩৬৩ জন আহত হন। সেই সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নওয়াজ শরিফ। কারগিলের বিজয় আজও ভারতীয় সেনাবাহিনীর বীরত্ব, শৃঙ্খলা ও আত্মত্যাগের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ