
আগরতলা, ২৭ জুলাই (হি.স.) : জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন (এনএইচএম)-এর অধীনে কমিউনিটি হেলথ অফিসার (সিএইচও) পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে সোমবার স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পরীক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বৃহত্তর গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।
জানা গেছে, চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি কমিউনিটি হেলথ অফিসার পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে ছিল সোসাইটি ফর এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট (সফেদ)। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষা শুরুর আগের রাতেই সফেদ-এর সঙ্গে যুক্ত কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দেয়। ফলে প্রকৃত মেধাবীদের সঙ্গে চরম অবিচার হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তাঁরা প্রথমে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন এবং শিক্ষা দফতরের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছে অভিযোগ জানান। কিন্তু অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পরিবর্তে দায় এড়িয়ে পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা সফেদ-এর উপর দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সোমবার পরীক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিকর্তা এবং জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের রাজ্য অধিকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানায়। প্রতিনিধিদলের সদস্যদের বক্তব্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাই বিষয়টির সত্যতা উদঘাটনে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া জরুরি। তদন্তে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রয়োজনে নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনারও দাবি জানান তাঁরা।
পরীক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত এনএইচএম কর্তৃপক্ষ নিয়েছিল। ফলে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের নিষ্পত্তি করার দায়িত্বও এনএইচএম কর্তৃপক্ষের। এই দায়িত্ব কোনওভাবেই শুধুমাত্র পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থার উপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না।
এদিন প্রতিনিধি দল ইন্দ্রনগরস্থিত সফেদ-এর কার্যালয়েও গিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করে। সেখানে দ্রুত তদন্ত শুরু, অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
পরীক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসন যদি দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের উদ্যোগ না নেয়, তাহলে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি উত্থাপন করবেন। পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করতেও তাঁরা বাধ্য হবেন বলে জানান। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এখন রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ