সরকারি জমি থেকে মাটি ও গাছ পাচার মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, শাহজাহান শেখ–সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ
নদিয়া, ২৭ জুলাই (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার নাকাশিপাড়া এলাকায় সরকারি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি এবং মূল্যবান সেগুন ও মেহগনি গাছ অবৈধভাবে কেটে পাচারের ঘটনায় কৃষ্ণনগর মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালত বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। আদ
মামলা দায়ের


নদিয়া, ২৭ জুলাই (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার নাকাশিপাড়া এলাকায় সরকারি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি এবং মূল্যবান সেগুন ও মেহগনি গাছ অবৈধভাবে কেটে পাচারের ঘটনায় কৃষ্ণনগর মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালত বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। আদালত তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও শাহজাহান শেখ সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের পক্ষ থেকে নাকাশিপাড়া থানার পুলিশকে এই ঘটনার তদন্তভার গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

আদালতের এই নির্দেশের পর আদালত চত্বরে আবেদনকারী ও তাঁদের সমর্থকেরা মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ প্রকাশ করেন।

আবেদনকারীদের আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাস জানান, এই মামলাটি গত ২৫ জুন কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে দায়ের করা হয়েছিল। প্রাথমিক শুনানির পর আদালত নাকাশিপাড়া থানার কাছে রিপোর্ট তলব করে। সোমবার পুলিশের দেওয়া রিপোর্টের ওপর শুনানি শেষে মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট তরুণ কুমার মণ্ডল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেন।

আবেদনকারীদের দাবি অনুযায়ী, নাকাশিপাড়ার ২৪ নম্বর মৌজায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে অবস্থিত প্রায় ১,১০০ বিঘা সরকারি খাস জমির লিজের মেয়াদ ২০২০ সালেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। অভিযোগ, তা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৪৫০ বিঘা এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি হাজার হাজার মূল্যবান সেগুন ও মেহগনি গাছ কেটে পাচার করা হয়েছে, যার ফলে সরকারি সম্পত্তির বিপুল ক্ষতি হয়েছে।

আবেদনকারীদের আইনজীবীর অভিযোগ, এই পুরো প্রক্রিয়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদত ছিল এবং সেই কারণেই পুলিশ এতদিন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা অন্য কোনো অভিযুক্তের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মামলার আবেদনকারী তথা নাকাশিপাড়ার বাসিন্দা পরাশর মণ্ডল আদালতের এই আদেশকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বহু বছর ধরে সরকারি জমি থেকে বেআইনিভাবে মাটি ও মূল্যবান গাছ পাচার করা হচ্ছিল। রাজনৈতিক ছত্রছায়া ছাড়া এত বড় দুর্নীতির ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয় বলে তিনি অভিযোগ করেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পুরো মামলাটির তদন্ত এখন নাকাশিপাড়া থানার পুলিশ পরিচালনা করবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande