
ক্যানিং, ২৭ জুলাই (হি.স.) : এক সাফাই কর্মীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ উঠল ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের ডেপুটি সুপারের বিরুদ্ধে। রবিবার রাতে ওই সাফাই কর্মী দীপাঞ্জন ঘটক একসাথে প্রচুর ঘুমের ওষুধ খেয়ে নেন। ক্যানিংয়ের তালদি গ্রামের বাসিন্দা ওই সাফাই কর্মীকে রাতেই পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন তিনি। এই ঘটনার পর সোমবার দুপুরে দীপাঞ্জনের মা রানু ঘটক ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের ডেপুটি সুপার বসুমিতা আঢ্যের বিরুদ্ধে ক্যানিং থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ডেপুটি সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এই সাফাই কর্মীকে দিয়ে দিনের পর দিন হাসপাতালে দুর্ঘটনায় জখম হয়ে আসাদের সেলাই, ড্রেসিং করাতেন, পাশাপাশি ব্লাড স্যাম্পল কালেকশনও করাতেন। তাছাড়াও নিজের ব্যক্তিগত নানা ফাইফরমাশ খাটাতেন। কোনো কিছুর প্রতিবাদ করতে গেলেই নানাভাবে হুমকি দিতেন তিনি। এমনকি ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নানা ধরনের দুর্নীতির সাথে এই ডেপুটি সুপার জড়িত বলে দাবি দীপাঞ্জনের পরিবারের। তাঁদের অভিযোগ, সেই দুর্নীতির কথা জানতে পারার কারণে এবং এ বিষয়ে প্রতিবাদ করার জন্যই বিগত মাস দুয়েক ধরে দীপাঞ্জনকে নানাভাবে মানসিক অত্যাচার করছেন বসুমিতা। এমনকি কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও বারবার দিয়েছেন এই চুক্তিভিত্তিক সাফাই কর্মীকে।
দীপাঞ্জনের পরিবারের আরও অভিযোগ, তাঁর মা অসুস্থ; সংসার অনেকটাই নির্ভর করে তাঁর উপার্জনের ওপর। কাজ চলে গেলে ঘোর সমস্যায় পড়তে হবে। মায়ের অসুস্থতার কথাও ডেপুটি সুপারকে জানিয়েছিলেন দীপাঞ্জন। কিন্তু সহানুভূতি তো দূর, উল্টে দীপাঞ্জনকে আত্মহত্যা করতে বলা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। সেই ঘটনার পর থেকেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন ওই সাফাই কর্মী। শেষমেশ সেই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে রবিবার সন্ধ্যায় নিজের বাড়িতেই অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।
তাঁর মা বলেন, “বিগত প্রায় দু'মাস ধরে নানাভাবে ছেলের ওপর মানসিক অত্যাচার করছেন ডেপুটি সুপার। ছেলেকে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেওয়ার লাগাতার হুমকিও দিতেন। ছেলে একেবারে ভেঙে পড়েছিল। ডিউটি রোস্টার থেকেও ওঁর নাম কেটে দিয়েছিলেন রবিবার। সেই মানসিক চাপেই আত্মহননের পথ বেছে নেয় দীপাঞ্জন। ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং ডেপুটি সুপারের যথাযোগ্য শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
যদিও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি বসুমিতা আঢ্যের কাছ থেকে। হাসপাতালে গেলে তিনি দেখা করতে রাজি হননি; এমনকি ফোন ধরেননি এবং এসএমএসেরও কোনো উত্তর দেননি। হাসপাতাল সুপার অপূর্বলাল সরকারও এ বিষয়ে কিছু বলতে চাননি। তিনি জানান, “বিষয়টি আমার জানা নেই, তাই কোনো মন্তব্য করব না।”
হিন্দুস্থান সমাচার / পার্সতি সাহা