
দুর্গাপুর, ২৭ জুলাই (হি. স.): একই রাজ্য পুলিশ, ফারাক শুধু সরকারের নেতৃত্বে—আর তাতেই যেন ভোল বদলে গেল! একসময় গরু পাচার রুখতে গিয়ে উল্টে পুলিশের হাতেই মামলা খেতে হতো। আর সরকারের নেতৃত্বের বদলের পর, সেই পুলিশই অবৈধভাবে গরু পাচার রুখে দিল। আর গরু পাচার রুখে দেওয়ায় ওই পুলিশ অফিসারকে মিষ্টিমুখ করালেন বিজেপি যুবনেতা। এমনই নজিরবিহীন ঘটনার ছবি ধরা পড়ল দুর্গাপুরে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার গভীর রাতে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে বিহার থেকে কলকাতার দিকে একটি গরু বোঝাই ট্রাক যাচ্ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালায় দুর্গাপুর ফরিদপুর ফাঁড়ির পুলিশ। তল্লাশির সময় ট্রাকটি আটক করা হয় এবং সেখান থেকে ২১টি গরু উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
খবর চাউর হতেই সোমবার মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে সটান ফাঁড়িতে পৌঁছান বিজেপি যুবনেতা পারিজাত গাঙ্গুলি। তিনি ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে মিষ্টি খাইয়ে পুলিশের এই সফলা অভিযানের জন্য শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, গত ২ জুলাই ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে কাঁকসার বাঁশকোপা টোলপ্লাজায় কন্টেনারের ভেতর গরু পাচার আটকে দিয়েছিলেন পারিজাতের নেতৃত্বে বিজেপি কর্মীরা। সেই সময় ২৫টি গরুসহ কন্টেনার আটক হয় এবং তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারপর একই বছরের ৩১ জুলাই ফের বেআইনিভাবে গরু বোঝাই একটি পিকআপ ভ্যানকে আটক করেন পারিজাতের নেতৃত্বাধীন বিজেপি কর্মীরা। অভিযোগ, পিকআপ ভ্যানের ভেতরে আলাদা পাটাতন তৈরি করে গরুগুলির পা বেঁধে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে দুমড়ে-মুচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ডালা খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় বিজেপি কর্মীদের। ওই নির্মম বাঁধন দেখেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তাঁরা। এরপর চালককে জেরা করে গরু নিয়ে যাওয়ার বৈধ অনুমতিপত্র দেখতে চাওয়া হয়। তা দেখাতে না পারায় চালককে একই কায়দায় বেঁধে রাখে উত্তেজিত জনতা। ঘটনাকে ঘিরে তুমুল কাণ্ড বেঁধে যায়। প্রশ্ন ওঠে, পুলিশ-প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে এভাবে নির্মমভাবে গরু পাচার হচ্ছিল? কিন্তু সেই ঘটনায় উল্টে পারিজাতসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছিল তৎকালীন পুলিশ।
এই প্রসঙ্গে পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “একই পুলিশ, শুধু সরকারের নেতৃত্ব বদল হয়েছে। আর সেই পুলিশই আজ দেখিয়ে দিল কীভাবে বেআইনি গরু পাচার রুখতে হয়। তাই পুলিশকে কুর্নিশ জানাতে মিষ্টি খাওয়ালাম।”
পুলিশ জানিয়েছে, “আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই পাচারচক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা