
ঝাড়গ্রাম, ২৭ জুলাই (হিসা): বিধানসভায় লোধা-শবর সম্প্রদায়ের অধিকার, উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের নানা সমস্যার বিষয়টি তুলে ধরেছেন ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ। তাই সোমবার বিধায়ককে ধন্যবাদ জানাতে ঝাড়গ্রাম শহরে একটি ধন্যবাদ জ্ঞাপন মিছিলে অংশ নেন লোধা-শবর সম্প্রদায়ের মানুষজন। এদিনের বর্ণাঢ্য এই যাত্রায় অংশ নিয়ে নিজেদের উচ্ছ্বাস ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রান্তিক এই সম্প্রদায়ের নারী, পুরুষ ও যুবসমাজ।
সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ ঝাড়গ্রামের হিন্দু মিশন মাঠ থেকে মিছিলটির সূচনা হয়। ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত এই মিছিলটি শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা করে ঝাড়গ্রামের পাঁচমাথা মোড়ে এসে শেষ হয়।
এদিন লোধা-শবর সম্প্রদায়ের যুবক রাজা মল্লিক বলেন, “আমাদের বিধায়ক বিধানসভায় দাঁড়িয়ে আমাদের সুখ-দুঃখ, বঞ্চনা ও সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছেন। এতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তাই তাঁকে ধন্যবাদ জানাতেই এই আয়োজন। অতীতে বহুবার আমাদের সমস্যার কথা জানানো হলেও কেউ সেভাবে গুরুত্ব দেননি। কিন্তু বিধায়ক আমাদের কথা শুনে সবসময় পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন।”
ধন্যবাদ যাত্রাটি পাঁচমাথা মোড়ে পৌঁছালে সেখানে উপস্থিত হন বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ। তাঁকে ঘিরে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন উপস্থিত মানুষজন। সেখানে এক লোধা পরিবারের ছোট্ট শিশুকে কোলে তুলে নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় বিধায়ককে।
বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ বলেন, “বিধানসভায় লোধা-শবর সমাজের উন্নয়ন, অধিকার ও বিভিন্ন সমস্যার বিষয়টি আমি তুলে ধরেছিলাম। সেই কারণেই তাঁরা ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানাতে এই ধন্যবাদ যাত্রার আয়োজন করেছেন। এই সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য পাকা ঘর, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ছেলেমেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা আমাদের সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।”
পাশাপাশি তিনি পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে অভিযোগ জানান, “লোধা-শবরদের উন্নয়নের নামে অতীতে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। আমরা রাজনীতিকে জনসেবার মাধ্যম হিসেবেই দেখি। এই প্রান্তিক মানুষের ন্যায্য অধিকার ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো