
অমৃতসর, ২৮ জুলাই (হি.স.): বিমান যাত্রীদের জন্য সুখবর, একইসঙ্গে অমৃতসর হয়ে উঠল উত্তর ভারতের আন্তর্জাতিক গেটওয়ে। এমওসিএ-র সচিব সমীর কুমার সিনহা এবং এএআই-এর চেয়ারম্যান বিপিন কুমার মঙ্গলবার 'দিল্লির মাধ্যমে অমৃতসরকে বিশ্বের সঙ্গে সংযোগকারী হাব অ্যান্ড স্পোক ফ্লাইট পরিষেবা'-র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী কিনজারাপু রাম মোহন নাইডু ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, পঞ্জাব থেকে লন্ডন, টরন্টো অথবা দুবাই যেতে চাইলে যাত্রীদের প্রথমে দিল্লি পৌঁছতে হতো; সেখানে আবার মালপত্র সামলানো, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো এবং অভিবাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার মতো ঝক্কি পোহাতে হতো। এই তাড়াহুড়ো ও ঝামেলায় দিনের অর্ধেকটাই সময় কেটে যেত। কিন্তু এখন, আপনি অমৃতসর বিমানবন্দর থেকেই চেক-ইন ও অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। আপনার মালপত্র অমৃতসরেই চেক-ইন করা হবে এবং তা সরাসরি আপনার আন্তর্জাতিক গন্তব্যে পৌঁছে যাবে, যেখানে আপনি তা সংগ্রহ করতে পারবেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও বলেন, চেক-ইন, অভিবাসন, কাস্টমস এবং ব্যাগেজ জমা দেওয়ার মতো সব কাজ এখানেই সম্পন্ন হবে। দিল্লিতে পৌঁছে আপনাকে কেবল কানেক্টিং ফ্লাইটে উঠতে হবে। মাত্র ৪ ঘণ্টার ব্যবধানেই আপনি আপনার আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে চড়তে পারবেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার যাত্রী আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ধরার জন্য অমৃতসর থেকে দিল্লি যান। একইভাবে, বিদেশ থেকে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার যাত্রী দিল্লিতে আসেন এবং সেখান থেকে অমৃতসরে যান। অমৃতসর উত্তর ভারতের আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হয়ে উঠবে। পঞ্জাব, জম্মু ও কাশ্মীর এবং হিমাচল প্রদেশের মতো প্রধান অঞ্চলগুলি এর মাধ্যমে সংযুক্ত হবে। বিদেশে বসবাসকারী প্রায় ৩ কোটি ভারতীয়র মধ্যে প্রায় ১ কোটিই হলেন পাঞ্জাবি। বিমান যোগাযোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অমৃতসরের অর্থনীতি সরাসরি উপকৃত হবে। যাত্রীদের সমাগম বাড়লে হোটেল ও সংশ্লিষ্ট সেক্টরের ব্যবসা চাঙ্গা হবে। হস্তশিল্প, বস্ত্রশিল্প, কার্গো এবং লজিস্টিকসের মতো সেক্টরগুলো নতুন গতি পাবে। 'হাব অ্যান্ড স্পোক' মডেলটি আমাদের বিমান সংস্থাগুলোর জন্য—বিশেষ করে আন্তর্জাতিক দীর্ঘ-পাল্লার রুটে—প্রতি ফ্লাইটে আয় বৃদ্ধি করবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সংবাদ