
খোয়াই (ত্রিপুরা), ৩০ জুলাই (হি.স.) : ত্রিপুরার প্রতিটি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং আধুনিক জনপরিষেবা নিশ্চিত করাই বর্তমান রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। তিনি বলেন, ধারাবাহিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ত্রিপুরাকে দেশের অন্যতম উন্নত রাজ্যে পরিণত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে চলেছে।
বৃহস্পতিবার খোয়াই নতুন টাউন হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় ৮ কোটি ৯ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করে মুখ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দফতরের মন্ত্রী টিংকু রায়, খোয়াই জেলা পরিষদের সভাধিপতি অপর্ণা সিংহ রায়, বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী, জেলা শাসক রজত পন্থ, পুলিশ সুপার বি জগদীশ্বর রেড্ডি, জেলা আধিকারিক অশোক কুমার এবং খোয়াই পুরপরিষদের চেয়ারপার্সন দেবাশিস নাথশর্মা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের আগে মুখ্যমন্ত্রী টাউন হল সংলগ্ন ভগৎ সিং জিমনাসিয়ামের আধুনিকীকরণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি শৈশব ও আনন্দনীড় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত স্মার্ট শিক্ষা ব্যবস্থারও সূচনা করেন। পরে ভার্চুয়াল মাধ্যমে জেলার একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দূরবর্তী এলাকার মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা আরও সহজলভ্য করতে ৮টি স্মার্ট ওপিডি কিট চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে টেলিমেডিসিন পরিষেবা আরও শক্তিশালী হবে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ সহজেই পাবেন।
শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, খোয়াই সরকারি উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, ডিজিটাল স্মার্ট বোর্ড এবং কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার আরও বেশি সুযোগ পাবে।
প্রশাসনিক পরিষেবাকে গতিশীল করতে অফিসটিলায় সমাজকল্যাণ দফতরের নতুন জেলা কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে পরিচিত করতে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে স্মার্ট স্ক্রিন ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) হেডসেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ভগৎ সিং জিমনাসিয়ামের আধুনিকীকরণের ফলে সেখানে আধুনিক জিম সরঞ্জাম, ট্রেডমিলসহ উন্নত শরীরচর্চার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণে জেলার ৮৬০টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে রুফটপ রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতের জন্য বৃষ্টির জল সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
নারীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধির কথা মাথায় রেখে মহিলা থানা এবং সুভাষ পার্ক সংলগ্ন এলাকায় পিংক টয়লেট চালু করা হয়েছে। অন্যদিকে, স্বচ্ছ ভারত মিশন (গ্রামীণ)-এর আওতায় পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যাটারিচালিত ট্রিপার চালু হয়েছে, যার মাধ্যমে ভেজা ও শুকনো বর্জ্য পৃথকভাবে সংগ্রহ ও পরিবহণ করা হবে।
এছাড়া অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়াতে স্বল্প খরচে শবদেহ বহনকারী যান পরিষেবাও চালু করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী একে মানবিক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গত এক বছরে সারা রাজ্যে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সবকা সাথ, সবকা বিকাশ নীতিকে সামনে রেখে রাজ্য সরকার উন্নয়নের ধারাকে আরও গতিশীল করেছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিজনেস কনক্লেভ-এর প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, প্রায় ১,২০০ জন বিনিয়োগকারী ৪৬৬টি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছেন। এর ফলে আগামী দিনে ত্রিপুরা বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য হয়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বালিকা সমৃদ্ধি যোজনা-র আওতায় শিবানি দাসকে ৫০ হাজার টাকার এবং মুখ্যমন্ত্রী কন্যা বিবাহ যোজনা-র আওতায় হেপি দেববর্মাকে ৫০ হাজার টাকার প্রতীকী চেক প্রদান করেন। এছাড়া অরিমা দেববর্মার হাতে পোষণ কিট তুলে দেন।
সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা মন্ত্রী টিংকু রায় বলেন, রাজ্যের ৫ হাজারেরও বেশি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে এবং বাকি কেন্দ্রগুলিতেও দ্রুত এই কাজ সম্পন্ন হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে স্মার্ট ক্লাসরুম চালু করা হয়েছে এবং ১০০টি কেন্দ্রে ইংরেজি মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা চালুর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দিব্যাঙ্গদের চিহ্নিত করে সামাজিক ভাতার আওতায় আনার কাজ চলছে। বর্তমানে ৩,৫০০ জন মানসিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি মাসিক ৫ হাজার টাকা ভাতা পাচ্ছেন। গত তিন বছরে প্রায় ৪৫ হাজার দিব্যাঙ্গকে ইউডিআইডি কার্ড প্রদান করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জেলা শাসক রজত পন্থ স্বাগত ভাষণ দেন। শেষে উপস্থিত অতিথিরা জেলার উন্নয়নমূলক বিভিন্ন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ