(আপডেট) নেতাজিকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘অপপ্রচার’: কড়া অবস্থানে রাজ্য, শতাধিক পোস্টের বিরুদ্ধে বিএনএস ধারায় মামলার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
কলকাতা, ১২ আগস্ট (হি.স.) : দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘মিথ্যা প্রচার’ এবং আপত্তিকর বিজ্ঞপ্তির অভিযোগে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। ফেসবুকে নেতাজিকে নিয়ে করা প্রায় ১০০টি আপত্তিকর ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট চিহ্নিত
(আপডেট) নেতাজিকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘অপপ্রচার’: কড়া অবস্থানে রাজ্য, শতাধিক পোস্টের বিরুদ্ধে বিএনএস ধারায় মামলার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর


কলকাতা, ১২ আগস্ট (হি.স.) : দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘মিথ্যা প্রচার’ এবং আপত্তিকর বিজ্ঞপ্তির অভিযোগে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। ফেসবুকে নেতাজিকে নিয়ে করা প্রায় ১০০টি আপত্তিকর ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, এ ধরনের পোস্টের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) সুনির্দিষ্ট ধারায় আইনি মামলা রুজু করবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কেবল বাংলার নন, সমগ্র ভারতবর্ষের শ্রদ্ধা, আবেগ ও জাতীয় গৌরবের প্রতীক। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অনবদ্য অবদান ও ঐতিহাসিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে এমন কোনো মিথ্যা তথ্য, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বরদাস্ত করা হবে না। মুক্ত ডিজিটাল মাধ্যমে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়ালে প্রশাসন কঠোর হাতে আইনি ব্যবস্থা নেবে।

রাজ্য প্রশাসন সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গের একাধিক বিশিষ্ট নেতা ও মন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ ও আবেদন জানিয়েছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, আবেদনকারীরা সকলেই খাঁটি দেশপ্রেমিক এবং তাঁদের মধ্যে উত্তরবঙ্গের রাজবংশী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। উত্তরবঙ্গ থেকে আসা এই গুরুতর অভিযোগগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়েই প্রশাসনিক স্তরে তদন্ত শুরু হয়েছে।

ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং এডিজি (আইনশৃঙ্খলা)-র সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ— অভিযোগ পাওয়ার পর প্রতিটি বিতর্কিত পোস্ট খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিএনএস (বিএনএস)-এর কড়া ধারায় এফআইআর দায়ের করতে হবে। ডিজিটাল অপরাধকে কেবল ভার্চুয়াল কার্যক্রম হিসেবে না দেখে আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য।

শুধু ব্যক্তি বিশেষের বিরুদ্ধেই নয়, সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম কর্তৃপক্ষের কাছেও বার্তা পাঠানো হয়েছে। কোনো পোস্ট আপত্তিকর বা আইনবিরুদ্ধ প্রমাণিত হলে তা কীভাবে ছড়ালো, নেপথ্যে কারা ছিল এবং টেক ডাউন করার ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা কী— সে বিষয়গুলিও পুলিশি তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।

যে সমস্ত ব্যক্তি ইতিপূর্বে এই ধরনের বিতর্কিত পোস্ট করেছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে অবিলম্বে ওই আপত্তিকর পোস্টগুলি মুছে ফেলা উচিত। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পোস্ট ডিলিট করলেই আইনি দায় থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না। ডিলিট করলেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, পুলিশ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

উত্তরবঙ্গের যে সমস্ত নেতা ও মন্ত্রী এই বিষয়ে সরব হয়েছেন, তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়ে নেতাজির মর্যাদা রক্ষায় সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পশ্চিমবঙ্গের পবিত্র মাটি থেকে নেতাজির মতো মনীষীকে নিয়ে এরকম কুৎসিত কাজ আমরা কিছুতেই হতে দেব না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেতাজিকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থান যেমন প্রশাসনিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষত উত্তরবঙ্গের রাজবংশী সম্প্রদায় সহ বিভিন্ন স্তরের আবেদন আসার পর পুলিশ যেভাবে সক্রিয় হয়েছে, তাতে আগামী দিনে চিহ্নিত পোস্টদাতাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর সকলের।

হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত




 

 rajesh pande