
কলকাতা, ১৩ আগস্ট (হি.স.): ‘ভারতীয় ব্যবসা মহোৎসব ২০২৬’-এ পশ্চিমবঙ্গের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি (এমএসএমই) শিল্পক্ষেত্র, ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প এবং নতুন প্রজন্মের উদ্ভাবনী উদ্যোগকে বিশেষভাবে তুলে ধরল রাজ্য সরকার। চার দিনব্যাপী চলা এই ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্য মহোৎসবে পশ্চিমবঙ্গের জন্য একটি বিশেষ 'এমএসএমই প্যাভিলিয়ন' তৈরি করা হয়েছিল। রাজ্যের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ এবং বস্ত্র দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী দীপক বর্মন আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্যাভিলিয়নের উদ্বোধন করেন। বৃহস্পতিবারই চার দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য উৎসবের সফল সমাপ্তি ঘটেছে।
প্রদর্শনী প্যাভিলিয়নটিতে একদিকে যেমন বাংলার ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প ও পোড়ামাটির কারুকাজ স্থান পেয়েছে, তেমনই অন্যদিকে আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্ট-আপ ও উদীয়মান উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী কাজকে তুলে ধরা হয়েছে। স্থানীয় কারিগরদের দক্ষতা ও উদ্যোগকে আধুনিক বিশ্ববাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূলস্রোতের সঙ্গে যুক্ত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, রাজ্যে এমএসএমই শিল্পের ভবিষ্যৎ বিকাশ ও সম্প্রসারণে পরিকাঠামো উন্নয়ন, একক জানালা ছাড়পত্র (সিঙ্গল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স) ব্যবস্থা, বিভিন্ন জেলায় শিল্প পার্ক (ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক) গড়ে তোলা, 'প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা'র আওতায় কারিগরদের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ এবং 'উদ্যম ক্রেডিট কার্ড' চালুর পরিকল্পনার কথা প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্ষুদ্র কারিগরদের উৎপাদিত পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, মেলা আয়োজক সংস্থার দাবি অনুযায়ী, চার দিনের এই মহোৎসবে ১,০০০-এর বেশি প্রদর্শক, ২ লক্ষের বেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং ৫,০০০-এর বেশি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। রাজ্য প্রশাসনের আশা, এই আন্তর্জাতিক মেলাটি বাংলার এমএসএমই ক্ষেত্রের জন্য নতুন বাজার সৃষ্টি এবং বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক সংযোগ তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত